মাত্র আট মাস আগে তৈরি হওয়া দুধিয়া সেতু প্রবল বর্ষণের জেরে ভেসে যাওয়ায় ফের বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল শিলিগুড়ি ও মিরিকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রথম দফার ভারী বৃষ্টিতেই সেতুর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেতু নির্মাণে কোনও গলদ বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দুধিয়া এলাকায় বালাসন নদীর উপর অবস্থিত পুরনো লৌহ সেতুটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভয়াবহ বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে ভেঙে যায়।
এরপর মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ৪৬৮ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সেতুই এবার বর্ষার প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেসে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টির ফলে একাধিক স্থানে ভূমিধস নেমেছে। দার্জিলিং জেলার লেবং কার্ট রোড, মিরিকের গয়াবাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। সেচ দপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।দুধিয়া সেতু ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, দ্রুত অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এদিকে বালাসন নদীর উপর প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজ আগেই শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুত সম্পূর্ণ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আবহাওয়া দপ্তর উত্তরবঙ্গের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির ফলে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দক্ষিণবঙ্গেও আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১০ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।দুধিয়া সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনায় অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেতু নির্মাণে কোনও অনিয়ম বা কাটমানির অভিযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আপাতত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো।














