সিএএ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিধানসভায় রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন রয়েছেন, যাঁদের ধাপে ধাপে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারী এবং ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে দেন। তিনি বলেন, এসআইআর প্রসঙ্গে বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান একদম স্পষ্ট— যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তাঁরা অনুপ্রবেশকারীই।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সিএএ-র আওতায় না আসা বাকি যাঁরা রাজ্যে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার জনকে বের করা হয়েছে এবং ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষায় আছেন, যাঁদের নিয়মিতভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হচ্ছে।অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের অর্থ ব্যয় করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের করদাতাদের অর্থ রাজ্যের নাগরিকদের কল্যাণেই খরচ হবে। এই প্রসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর প্রকল্প, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা বৃদ্ধি, বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান, স্কুল সংস্কার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতগুলিতে অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের আটক রেখে তাঁদের খাওয়া-পোশাক-চিকিৎসার খরচ রাজ্য বহন করবে না।
অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের আইন অনুযায়ী তাঁদের আটক না রেখে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে কোনো ভারতীয় নাগরিকের চিন্তার কারণ নেই। তবে ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।বিএসএফকে জমি হস্তান্তর প্রসঙ্গে বিধানসভায় বিস্তারিত তথ্য পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।













