ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অটল কালাম হলে আয়োজিত বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি জানান, ভোটার তালিকা তৈরি থেকে ভোটগ্রহণ এবং গণনা, প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কড়া নজরদারির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথ লেভেল এজেন্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
তিনি জানান, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের মূল দায়িত্ব হল ভোটার তালিকা থেকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, দ্বৈত বা ভিন্রাজ্যের ভোটারদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা, একই সঙ্গে কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন তা নিশ্চিত করা। বিশেষত ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া প্রতিটি নাগরিকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কর্মকর্তাদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেন তিনি।ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার জানান, নির্বাচন শুরুর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে মক পোলের মাধ্যমে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতেই ইভিএম সিল করা হয় এবং নথিপত্রে সই সম্পন্ন হয়। গণনার দিনও এজেন্টদের সামনে ইভিএমের ভোটের সঙ্গে ফর্ম ১৭সি-র তথ্য মিলিয়ে যাচাই করা হয়।তালিকার শুদ্ধতা বজায় রাখতে কমিশন নিয়মিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালায়, যেখানে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি যাচাই, ম্যাপিং ও শুনানির মাধ্যমে ত্রুটি দূর করেন।
আমেদাবাদে আয়োজিত পঞ্চম আঞ্চলিক সম্মেলনেও যোগ দেন কমিশনার, যেখানে তরুণদের ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপ ডাউনলোড এবং স্কুল-কলেজে ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।বর্তমানে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহায়তা ইনস্টিটিউটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে ৩৫টি গণতান্ত্রিক দেশের সংগঠন-প্রধান ভারত, যা দেশের স্বাধীন নির্বাচনী ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণ। ১৮ বছর হলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও ভোটদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কর্তব্য পালনের বার্তা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।














