কর্মসূত্রে মুম্বই বা বেঙ্গালুরুতে থাকা বাংলার শ্রমিক কিংবা বিদেশে গবেষণারত পড়ুয়া ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য আর হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে সশরীরে হাজির হতে হবে না কমিশনের দুয়ারে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ শুনানির নিয়মে বড়সড় বদল আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ভিন্রাজ্যে বা দেশের বাইরে থাকা ভোটারদের সুবিধার্থে একাধিক বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। মূলত পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রবাসী পেশাজীবীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে যাতে অকারণে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা।
এতদিন নিয়ম ছিল, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্তির সময় তথ্য নিয়ে কোনও সংশয় দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট দিনে নির্বাচনী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজির হতে হত। এই নিয়মের গেঁরোয় পড়ে কাজ বা পড়াশোনার জায়গা ছেড়ে বহু মানুষ বাড়ি ফিরতে পারতেন না। ফলে তথ্য থাকা সত্ত্বেও বহু বৈধ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিল। সেই সমস্যা মেটাতেই এবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চাইছে রাজ্য কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, সশরীরে উপস্থিত হওয়ার বদলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানি সম্পন্ন করা যেতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্তমান বাসস্থানের কাছাকাছি কোনও ভোটকেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে নথি যাচাই করার সুযোগ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এই সমস্যা মেটাতে একটি ডেডিকেটেড পোর্টাল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সেই পোর্টালে লগ-ইন করে ভোটাররা দূর থেকেই তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে পারবেন। এমনকি নথিপত্র বিএলও-র নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর বিকল্পও রাখা হয়েছে। এরপর আধিকারিকরা সেই ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখে তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের নির্বাচনী দফতরে কয়েকশো অভিযোগ জমা পড়েছিল, যেখানে চিকিৎসার কারণে বা কাজের চাপে শুনানিতে আসতে না পারার আক্ষেপ জানিয়েছেন ভোটাররা। সেই মানুষের কথা মাথায় রেখেই কমিশনের এই নতুন ভাবনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে।
বর্তমানে সংশোধনের শুনানি প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তারপরই বেজে যেতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা। তার ঠিক আগে এমন এক মানবিক ও আধুনিক প্রস্তাব যে ভোটারদের জন্য বড় স্বস্তি, তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয়ের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী মানুষ উপকৃত হবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ আরও সুনিশ্চিত হবে।














