নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে মেজাজ হারালেন না ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। বরং খোশমেজাজে ধরা দিয়ে শোনালেন অটোগ্রাফ দেওয়া আর সেলফি তোলার অভিজ্ঞতা। বুধবার যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে কমিশনের তলবে হাজিরা দেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়েই দেব বলেন, ‘ভিতরে অনেক ছবি তুললাম। অনেককে অটোগ্রাফ দিলাম।
আর কিছু কাগজে সই করলাম। ব্যস।’ তবে নিজের অভিজ্ঞতা মধুর হলেও সাধারণ ভোটারদের হয়রানি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মাস দুয়েক আগে কেন ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) শুরু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিন বারের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ থাকলেও দেব ছিলেন শান্ত। শুনানি শেষে তিনি সাফ জানান যে, তিনি আইন মেনেই নথিপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজের পরিচয় প্রমাণ করেছেন। দেবের কথায়, তিনি ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিচ্ছেন।
তাই হঠাৎ করে তাঁর নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি অবাক। অভিনেতা জানান, তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তার পরেই তাঁকে ডাকা হয়। তবে এই ডাকার নেপথ্যে কার ভুল, তা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে রাজি নন তিনি। দেবের কথায়, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। বলতে চাই না যে, এটা কমিশনের ভুল বা দেবের ভুল।’ রাজনৈতিক টানাপড়েন চললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই তাঁর প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুনানি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে দেবের গলায় শোনা গেল সাধারণ ও প্রবীণ ভোটারদের প্রতি সমবেদনা।
কনকনে ঠান্ডার মধ্যে বয়স্ক মানুষদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কমিশনের কাছে করজোড়ে আবেদন জানিয়ে দেব বলেন, ‘প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে একটু ভাবুন, এটাই কমিশনের কাছে আমার করজোড়ে অনুরোধ। আমাদের দল বা অন্য যে দলই ভোটে জিতুক, কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার যেন নির্বাচন কমিশনের চক্করে চলে না যায়।’ তাঁর প্রশ্ন, এই সমীক্ষার কাজ আরও এক বছর আগে কেন শুরু করা হল না? ভোটের মুখে এই তৎপরতা কেন, তা নিয়ে পরোক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।নেতাদের কথাবার্তায় সংযম বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছেন ঘাটালের সাংসদ।
তিনি চান না ভোটের আবহে বাংলার নাম খারাপ হোক। দেবের মতে, রাজনীতির লড়াই চলতেই থাকবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। ঘাটালে জন্ম হলেও দেবের বেড়ে ওঠা মুম্বইয়ে। অভিনয় সূত্রে কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এমন এক ব্যক্তিত্বকে এসআইআরের নোটিস পাঠানোয় ইতিমধ্যেই শাসকদল তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে। তবে দেবের নজর এখন শুধুই সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে। তিনি চান কমিশন যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সমস্যাগুলো বিবেচনা করে।













