Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি ইডি-র

মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি ইডি-র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলার দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ইউনেস্কো হেরিটেজের নাম করে কোটি-কোটি টাকা ব্যক্তিগত মুনাফা করার অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে সকাল-সকাল হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক তছরুপের মামলায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে ইডির তরফে।

 

পুজো পরিক্রমার টিকিট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে, এবং এই বিষয় নিয়েই মূলত তল্লাশি অভিযানে নেমেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকেরা। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের হুগলির ফার্ম হাউস থেকে শুরু করে কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কে পুজো মণ্ডপের পাশের বাড়ি এবং তাঁর মেয়ের বাড়ি- একযোগে একাধিক জায়গায় পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। ৮ জুন এই সংক্রান্ত প্রথম অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মূল অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা/দণ্ডবিধির জামিন-অযোগ্য ধারা ৩১৬(২), ৩৩৮, ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩) ছাড়াও ৩৪০(২) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে পুলিস।

 

পুলিসি তদন্তেই প্রথম উঠে আসে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার তথ্য। এরপর রাজ্য পুলিসের পক্ষ থেকে সমস্ত নথি ইডি-কে পাঠানো হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর ইডি এই ঘটনায় নিজস্ব ইসিআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামে। অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪- এই তিন বছরের দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো। উত্তর কলকাতার ১২টি ও দক্ষিণ কলকাতার ১২টি, অর্থাৎ মোট ২৪টি পুজোকে এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছিল। প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী ও পঞ্চমী-এই মোট পাঁচ দিন ধরে প্রিভিউ শো দেখানোর কথা বলা হয়। অভিযোগ, এই শোয়ের টিকিটের দাম রাখা হয়েছিল মাথা পিছু ৭,০০০ টাকা থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত। বাজার থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা সরাসরি তোলা হলেও সেই বিপুল অর্থের কোনও ধরনের অডিট করানো হয়নি।

 

৫ দিন, ২৪টি পুজো এবং ৩ বছরের হিসাব কষলে টিকিট বিক্রির এই অর্থের অঙ্ক বিপুল অঙ্কে পৌঁছায়। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন বছর ধরে ‘মাস আর্ট’ প্রিভিউ শো-এর ব্রোশিওরের কভার ও ব্যাক কভারের জন্য স্পনসরদের প্রভাবিত করা হয়েছিল। খোদ ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে এভাবে প্রতি বছর স্পনসরদের থেকে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। অর্থাৎ টিকিট ও স্পনসর মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা এবং তিন বছরে মোট প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সরাসরি তছরুপের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে কমবেশি প্রায় ২ কোটি টাকা বলে মনে করছেন ইডি আধিকারিকরা।

READ MORE.....