‘প্রত্যেক নাগরিকের সামান্য সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।’ আজ সোমবার থেকে শুরু হওয়া রোড সেফটি উইকের শুরুতেই পথ নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে এমন বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৩ অগস্ট থেকে ৯ অগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির এবারের মূল বার্তা ‘নিরাপদ রাস্তা, নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ’। সরকার জানিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটা প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক দায়িত্বও। চালক, মোটরবাইক আরোহী কিংবা পথচারী- সকলের সচেতনতা ও সতর্কতাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রোড সেফটি উইক উপলক্ষে নাগরিকদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেগুলো হল- সর্বদা ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালান। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়িয়ে চলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালান, চার চাকার গাড়িতে সিটবেল্ট এবং দু’চাকার ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করা।
পাশাপাশি অন্যদেরও পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার আবেদনও জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আজ পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে চিংড়িঘাটা ক্রসিং এ মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের উৎসাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে এবং কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্রাফিক ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় আজ ৩রা আগস্ট থেকে ৯ই আগস্ট জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে পালিত হচ্ছে “পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ – ২০২৬”। আজ চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে উপস্থিত থেকে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এগিয়ে আসা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করলাম। আমাদের অঙ্গীকার “নিরাপদ রাস্তা, নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ”। সকলের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও সচেতন আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গ।’
অন্যদিকে, রাজ্যে মাদক পাচার ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মাদক, অপরাধ এবং বেআইনি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী জানান, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ এবং মালদা জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য মিলেছে। গত মাসে কুখ্যাত মাদক পাচারকারী মৃদুল ঘোষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পিন্টু সরকার-সহ আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।















