বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় যুবশক্তির দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব তুলে ধরতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত। চিনের সাংহাইয়ে আগামী ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা ৪৮তম ‘ওয়ার্ল্ডস্কিলস প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ প্রথমবার ১১টি নতুন স্কিল বিভাগে অংশ নিতে চলেছে ভারত। মোট ৬৪টি বিভাগের মধ্যে ৬৩টিতেই এবার লড়াই করবে ‘টিম স্কিল ইন্ডিয়া’। প্রায় ৭০ জন দক্ষ প্রতিযোগীকে নিয়ে গঠিত এই প্রতিনিধি দলটি আন্তর্জাতিক দক্ষতার এই মহাযজ্ঞে ভারতের সর্বকালের বৃহত্তম ও সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দল হতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রক (এমএসডিই) সূত্রে জানা গেছে, যে ১১টি নতুন বিভাগে ভারত প্রথমবার অংশ নেবে সেগুলি হলো—ডেন্টাল প্রোস্থেটিক্স, ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাক্টিভ মিডিয়া ডিজাইন, ইন্টেলিজেন্ট সিকিউরিটি টেকনোলজি, ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেনিং, অপটোইলেকট্রনিক টেকনোলজি, রিটেল সেলস, আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেমস (ড্রোন প্রযুক্তি), ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেকানিক্স, সফটওয়্যার টেস্টিং, হেভি ভেহিকল টেকনোলজি এবং এয়ারক্রাফট মেনটেন্যান্স।
স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল ডিজাইন, ড্রোন ব্যবস্থাপনা, উন্নত উৎপাদন এবং আধুনিক গতিশীলতার মতো ভবিষ্যতের শ্রমবাজার ও আন্তর্জাতিক শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন'(এনএসডিসি) বিভিন্ন শিল্প সহযোগী, বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতীয় দলের সার্বিক প্রস্তুতি পরিচালনা করছে। এই প্রসঙ্গে এমএসডিই সচিব দেবাশ্রী মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই নতুন ক্ষেত্রগুলিতে ভারতের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎমুখী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রাসঙ্গিক দক্ষতার নিরিখে আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থার ক্রমবিকাশকেই স্পষ্ট করে। মজবুত অংশীদারি এবং কঠোর প্রস্তুতির মাধ্যমে আমরা আমাদের যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করতে এবং বিশ্বমানের সঙ্গে নিজেদের মান নির্ধারণ করতে প্রস্তুত করে তুলছি।”
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের দক্ষতার গ্রাফ বিগত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ডস্কিলসে ২৯ নম্বরে থাকা ভারত ২০২৪ সালের প্রতিযোগিতায় ১৩তম স্থানে উঠে আসে। এছাড়া ‘ওয়ার্ল্ডস্কিলস এশিয়া ২০২৫’-এ এশিয়া মহাদেশে অষ্টম স্থান অর্জন এবং চলতি ২০২৬ সালের ‘তাইপেই ক্যাপিটাল কাপ’-এ পাঁচটি পদক জয় ভারতীয় প্রতিভাদের ধারাবাহিক উন্নতিরই সাক্ষ্য দিচ্ছে। ‘স্কিল ইন্ডিয়া মিশন’-এর অধীনে আন্তর্জাতিক মানের এই সম্প্রসারিত অংশগ্রহণ ভারতকে বিশ্বজুড়ে দক্ষ মানবসম্পদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আরও এক বড় ধাপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।














