ঘরের মাঠ কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্লাব হোয়াচেন কেএসপিও ডব্লিউএফসি-র কাছে ১-৪ গোলে পরাজিত হল ইস্টবেঙ্গল এফসি। গ্রুপ ‘বি’-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধে লড়াই জমিয়ে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়ান দলের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে লাল-হলুদের রক্ষণভাগ।
প্রথম ম্যাচে হো চি মিন সিটিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ইতিবাচক সূচনা করলেও এই বড় ব্যবধানের পরাজয়ে কিছুটা চাপে পড়ল তারা, তবে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বজায় রেখেছিল কোরিয়ার দলটি, কিন্তু লাল-হলুদ রক্ষণ এবং গোলরক্ষক এলংবাম পান্থোই চানুর দক্ষতায় প্রথম দিকে গোল হজম করতে হয়নি। উল্টে ১৭ মিনিটে কিশোর ভারতীকে উল্লাসে ভাসিয়ে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
অধিনায়ক শিলকি দেবী হেমামের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত গতিতে বিপক্ষ ডিফেন্ডার কিম জি-হিওনকে পরাস্ত করেন উগান্ডার তারকা ফরোয়ার্ড ফজিলা ইকওয়াপুত। নিখুঁত নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে তিনি দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে হোয়াচেনের লি সু-বিনের নেওয়া ইনডাইরেক্ট ফ্রি-কিক দেওয়ালে প্রতিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নেওয়া শট রেস্টি নানজিরির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই কোরিয়ান দল খেলার রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ৫৩ মিনিটে বক্সে চই জিয়ং-মিনকে হিতোমি তানাকা ফাউল করায় ভিডিও সাপোর্টের মাধ্যমে পেনাল্টি পায় হোয়াচেন এবং স্পট কিক থেকে গোল করে উই জে-ইউন ব্যবধান ২-১ করেন।
ঠিক তিন মিনিট বাদে ৫৬ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে জিয়ং-মিনের মাপা ক্রসে পা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন মুন ইউন-জু। এরপর ৭৬ মিনিটে কিম হিওন-আ-এর বাড়ানো থ্রু পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চার নম্বর গোলটি করে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন সেই উই জে-ইউন। এই হারের ফলে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে এবং মাইনাস দুই গোল পার্থক্যের কারণে ইস্টবেঙ্গল এখন গ্রুপের তিন নম্বরে অবস্থান করছে। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে উত্তর কোরিয়ার দল ৪.২৫ স্পোর্টস ক্লাব।
আগামী শনিবার এই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ান দলের বিরুদ্ধেই গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচ থেকে ড্র করে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে মশাল গার্লসের। এমনকি ম্যাচটিতে পরাজিত হলেও অন্য সব গ্রুপের সেরা দুটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের অন্যতম হিসেবে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাছাড়া শনিবার গ্রুপ ‘এ’-তে ইরানের বাম খাতুন এবং মায়ানমারের আয়েয়াওয়াদির ম্যাচ ড্র হলে নিজেদের ম্যাচ শুরুর আগেই সরাসরি নকআউটের যোগ্যতা অর্জন করে ফেলবে লাল-হলুদ ব্রিগেড।













