Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

কালীপুজোর আগেই চা-শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে এককালীন ৫ হাজার , ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কালীপুজোর আগেই চা-শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে এককালীন ৫ হাজার , ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

‘উৎসবের দিনগুলিতে বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের হাতে বোনাস বা বাড়তি আয় থাকে না৷ তাই ২১টি বন্ধ চা-বাগানের ১৯,৫২৪ জন শ্রমিকের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৫ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার, যার জন্য মোট বরাদ্দ ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার টাকা৷ দীপাবলির আগেই এই অর্থ শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।’

 

শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যায় মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের হাজার-হাজার চা শ্রমিকের জন্য উৎসবের সময়ে এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চা-বাগানের শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি চা-বাগানের সমস্ত শ্রমিক ভাই-বোনেদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে উৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই৷ বিগত ছয় মাস ধরে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে৷ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২১টি চা-বাগান পুনরায় চালু করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷ ইতিমধ্যে চালু থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি চা-বাগানে এবার শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা গত বছর মাত্র ১৬ শতাংশ ছিল।’

 

চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে শুভেন্দু বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিগত দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের আমলে চালু চা-বাগানের শ্রমিকরা মাত্র ১৬ শতাংশ বোনাস পেতেন৷ শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, বেতন ও বোনাসের টাকা নিয়ে চরম দুর্নীতি ও প্রতারণা করা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নানা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাকে পশ্চিমবঙ্গে আটকে রাখা হয়েছিল৷ চা-শ্রমিকরা বছরের পর বছর ধরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।’ প্রতিবেশী রাজ্য অসমের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক হাজার কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী চা-শ্রমিক যোজনা’ এনেছিলেন৷ অসম সরকার প্রথম কিস্তিতেই ৩০০ কোটি টাকার বেশি এবং সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৩০ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন করে চা-বাগান এলাকাগুলিতে অভূতপূর্ব পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতার কারণে এই কাজ থমকে ছিল৷

 

আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেই ৩১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কেন্দ্রের কাছে পাঠায়৷ কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে, তা মঞ্জুর করেছে এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে নোডাল এজেন্সির দায়িত্ব দিয়ে এই অর্থ চা-বাগান এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দের অনুমোদন মিলিয়ে দিয়েছে।’ এছাড়াও চা-বাগান অঞ্চলের সার্বিক আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্পের আওতায় জব কার্ড তৈরি করতে বলা হয়েছে৷ এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরিতে বছরে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পাবেন শ্রমিকরা৷ ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সকল মহিলারা এখনও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় যুক্ত হননি, তাঁদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করে মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা প্রদানের জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু৷ পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার কথাও বলেন তিনি। উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন এবং চা-শ্রমিক পরিবারগুলির ভূমি অধিকার ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি রাজ্য সরকার করেছিল, তা ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু।

 

উত্তরবঙ্গের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রীশুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জন্য একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এবং নতুন প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২০২৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করা হবে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক এবং শিলিগুড়ির মহকুমা ও জেলা হাসপাতালগুলির ব্যাপক মেরামতি, আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

 

‘ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য শঙ্কর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, বিশাল লামা ও বিরাজ বিশ্বাস-সহ উত্তরবঙ্গের উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সুদৃঢ় হলে হাজার হাজার মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া নিশ্চিত হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটনের প্রসারে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ কিলোমিটারের একটি রোপওয়ে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বিকল্প মাধ্যম চালুর ফলে যেমন তীব্র যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে, তেমনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যাতায়াত অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।

 

উত্তরবঙ্গের জন্য এই বিশাল উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে স্বাগত জানিয়ে এবং সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের সার্বিক পরিকাঠামো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীজিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিক পর্যটনের এই প্রসার স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।’

READ MORE.....