উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে পাহাড়ের তুষারঝড়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন একই অভিযাত্রী দলের মোট ৮ সদস্য। এর মধ্যে ৫ জনের বাড়ি এ রাজ্যের বাঁকুড়া জেলায়। নিখোঁজ অভিযাত্রীদের নাম তাপস বাউরী, রতন ঘোষ, রিন্টু মন্ডল, উদয় ঘোষ ও মনোজ খাওয়াস। এর মধ্যে প্রথম ৪ জনের বাড়ি বাঁকুড়ার শালবনী গ্রামে। মনোজ খাওয়াসের বাড়ি বাঁকুড়ার কেশরা গ্রামে। অপর ৩ নিখোঁজ অভিযাত্রীর মধ্যে ২ জনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ ও ১ জনের বাড়ি উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশিতে। সময় যত গড়াচ্ছে ততই নিখোঁজ অভিযাত্রীদের পরিবারগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ।
বিষয়টি জানার পরেই পরিবার গুলির পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একটি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে উত্তরাখণ্ড সরকার এবং সেই রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সবসময় যোগাযোগ রাখছে। প্রশাসন এই কঠিন সময়ে সম্ভাব্য সব ধরনের লজিস্টিক ও মানসিক সহায়তা প্রদানের করবে। বাঁকুড়ার দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে আছে আমাদের সরকার।’ জানা গিয়েছে, ওই পর্বতারোহী দলে মোট ১২ জন অভিযাত্রী ছিলেন।
দলটির উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত ট্রেকিং করার কথা ছিল। নির্দিষ্ট দিনে গঙ্গোত্রীর বেস ক্যাম্প থেকে দলটি রওনাও দেয়। যাওয়ার পথে ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় আচমকাই তুষারঝড়ে নিখোঁজ হয়ে যান ওই অভিযাত্রী দলের অধিকাংশ সদস্য । পরে ৪ জন ফিরে এলেও বাকিদের খোঁজ নেই। ফিরে আসতে সক্ষম হওয়া ৪ জনের কাছে খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে উত্তরাখণ্ড সরকার। উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যভিয়েশান ডেভলপমেন্ট অথোরিটির হেলিকপ্টারের সাহায্যে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের এসডিআরএফ টিম গত ২ দিন ধরে হিমালয়ের নির্দিষ্ট ওই স্থানে তল্লাশি চালালেও এখনো নিখোঁজ ৮ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উচ্চ হিমালয়ের দুর্ঘটনাস্থলে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় মাঝেমধ্যেই তল্লাশি অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এদিকে সময় যত যাচ্ছে , ততই নিখোঁজ অভিযাত্রীদের পরিবারগুলিতে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশাসনের তরফে পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।












