বিধানসভা থেকেই বিরোধী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এনাফ ইজ এনাফ। আইনকে অমান্য করে বা সীমা ছাড়িয়ে কোনও মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না’। একই সঙ্গে তিনি জানান, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হুমায়ুন কবীরের করা বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছিল। সোমবার বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী বিষয়টি উত্থাপন করলে স্পিকারের নির্দেশে সরকার পক্ষের তরফে জানানো হয়, এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘রেজিনগর ও ভরতপুরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়াতেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত প্রভাব বা শক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই ধরনের মন্তব্য করার আগে বহুবার ভাবতে হবে’। শুধু সতর্কবার্তাই নয়, প্রশাসনিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন এবং যাঁরা এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মঞ্চ তৈরি করেছেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, ‘আইন নিজের পথেই চলবে’। এই বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’ পেশের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক ভাষার সীমারেখা— এই দুই প্রশ্নকে সামনে রেখেই সরকার কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে চাইছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা যত আক্রমণাত্মক হচ্ছে, ততই পাল্টা আইনি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রবণতা বাড়ছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সেই প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। আগামী দিনে এই সংঘাত কেবল রাজনৈতিক মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আইনি লড়াই আরও জোরদার হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।












