ভারতের নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রায় সারা দেশে এস আই আর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। কিন্তু এই কাজকে ভোটাররা ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত চক্রান্ত বলে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
শনিবার ছিল বাগনান-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত বাগনান-১ ও বাগনান-২ নম্বর এবং বাঙ্গালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শুনানি। উপস্থিত ছিলেন বাগনান-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মানস কুমার গিরি।
মুর্গাবেড়িয়ার বাসিন্দা শেখ গোলাম কাদের জানান, বর্তমানে প্রকৃতপক্ষে তাঁর বয়স ৭৩ বছর। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর। এখনকার ভোটার তালিকাতে তাঁর ৩৫ বছর বয়স দেখানো হচ্ছে। বাড়বাঙ্গালপুরের বাসিন্দা শেখ রহিম জানান, মানুষকে হয়রানি করার একটা শয়তানি বুদ্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়।
চেঙ্গিস খান নামে এক ভোটার জানালেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল ছোটখাটো কারণে তাঁদেরকে আবার শুনানিতে ডাকা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভোটারের নামের কোনও হদিস নেই। সব থেকে বড় সমস্যা হল, প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটার আনম্যাপড হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। যাঁদের ঠিকানা বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ভোটার তালিকায় সঠিকভাবে যুক্ত হয়নি বা বিভ্রান্তিকর।
তাছাড়াও এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশুনানি নিয়ে বেশকিছু বিভ্রান্তিকর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। অনেক ভোটার জানেন না কেন তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা শুনানিতে কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসার অর্থাৎ বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের খুঁজে পান না বা তথ্য সঠিকভাবে যাচাই হয় না।













