চা-পাতার সুবাসে মোড়া পাহাড়ি জনপদে এবার উন্নয়নের হাওয়া বইয়ে দিতে নামলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেন না, দিলেন একটি স্পষ্ট বার্তাও — আমি ঘুরতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি।
দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি ঢালে চা-বাগানের সারি। কিন্তু সেই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার গল্প। বন্ধ বাগান, অভুক্ত শ্রমিক, একশো-দেড়শো বছরের জীর্ণ গাছে ঝুলে থাকা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সেই ছবিটা বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েই পাহাড়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, দার্জিলিং পাহাড়ে জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত ৮৭টি চা বাগানের মধ্যে অন্তত ১৫টি এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ বন্ধ। বাকিগুলোতে একশো থেকে দেড়শো বছরের পুরনো গাছ থাকায় উৎপাদন ক্রমশ কমছে। লোকসান এতটাই বেড়েছে যে, পুরনো গাছ উপড়ে নতুন গাছ লাগানোর কথা কেউ ভাবতেই পারছেন না। অন্তত ২৫টি বাগানের মালিক এখন ক্রেতা খুঁজছেন। প্রতিটি বাগানে কাজ করেন কয়েকশো শ্রমিক। অর্থাৎ কয়েক হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে দিন গুজরান করছেন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, বন্ধ ২৫টি চা বাগানের পুনরুজ্জীবনে ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী পিএম চা-শ্রমিক যোজনা চালু করলেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার দুর্নীতির কারণে তা কার্যকর করেনি। এবার সেই যোজনার সুফল শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
চা শ্রমিকদের পাশাপাশি পাহাড়ের মহিলাদের কথাও মনে রাখলেন শুভেন্দু। ২৮ লক্ষ পাহাড়ি মহিলাকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন তিনি। সেই সঙ্গে কালিম্পংয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং হাসপাতালের সংস্কার, সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম এবং খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে ইনডোর স্টেডিয়াম গড়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করলেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস এবং রাজ্য পুলিশে নতুন করে এক হাজার জন গোর্খা যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করা হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিগত সরকারের আমলে এই বাহিনীতে নিয়োগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে এই ঐতিহাসিক বাহিনী মাত্র দু’টি ব্যাটেলিয়নে এসে ঠেকেছিল। তবে বর্তমান সরকার পাহাড়ের যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই বাহিনীকে নতুন করে সাজাবে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো অসমের মতো এখানেও চালু হলে চা শিল্প উপকৃত হবে।একমত কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফোরাম অব স্মল টি গ্রোয়ার্সের চেয়ারম্যান রজত কার্জিও।













