আধুনিকতার স্পর্শে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকশিল্প। এক সময়ে পূজা-পার্বণে ঢাকের আওয়াজে মাতোয়ারা হতো গ্রাম থেকে শহর, আর সেই ঢাকিদের বুক ভরে উঠত রোজগারে। কিন্তু আজ সেই শিল্পীরাই জীবিকার টানাপোড়েনে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
ফালাকাটার অধিকাংশ মন্দিরেই এখন ঢাক, কাশর, ঘন্টা, করতালের জায়গা দখল করেছে বৈদ্যুতিক মোটর চালিত বাদ্যযন্ত্র। একবার কিনলেই খরচ প্রায় শেষ, শ্রমিকের দরকার নেই, আর পছন্দমতো সুর-ছন্দও তাতে বদলানো যায়। মন্দির কমিটি জানাচ্ছে, অর্থাভাবে ঢাকিদের নিয়োগ সবসময় সম্ভব হয় না। দুর্গাপূজা বা কালীপূজার মতো বড় উৎসবে কিছুটা ব্যবস্থা করা হলেও সারা বছর ঢাকিদের আর ডাক পড়ে না।
ঢাকশিল্পী উত্তম দাস ও নরেশ দাসের আক্ষেপ, আগে দু’তিন মাস আগে থেকেই বায়না শুরু হয়ে যেত। বাইরে থেকেও শিল্পীরা আসতেন। কিন্তু এখন আমাদেরই ডাক আসে না। বৈদ্যুতিক ঢাকেই কাজ সেরে নিচ্ছে মন্দির।
অভিজ্ঞ ঢাকিরা জানাচ্ছেন, কাজ না থাকায় অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ নিতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়। ফলে শতাব্দী প্রাচীন ঢাকশিল্প ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ঢাকশিল্পের সংরক্ষণ ও ঢাকিদের আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা না হয়, তবে বাংলার ঐতিহ্যের এই অমূল্য সম্পদ আগামী দিনে ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।















