তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্ত আরও বিস্তৃত করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। শুক্রবার ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন এক ডেপুটি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট থানার আইসি এবং অভিজ্ঞ চার তদন্তকারী আধিকারিক।
তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগের পরিধি এবং আর্থিক লেনদেনের জটিলতা বিবেচনায় রেখেই পৃথক সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। দেবরাজের ল্যাপটপ খতিয়ে দেখে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ সরানোর সম্ভাব্য নথি, একাধিক সম্পত্তি হস্তান্তরের তথ্য এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে। এখন সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেবরাজের যোগাযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, রিসর্ট ও হোটেল ব্যবসা ঘিরে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। ভিনরাজ্যে হোটেল প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল এবং সেই অর্থের উৎস কী, তা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীরা দেবরাজের পলাতক থাকার সময়কার গতিবিধিও খুঁটিয়ে দেখছেন। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, ডিজিটাল লেনদেন এড়িয়ে চলতেই অধিকাংশ খরচ নগদে মেটাতেন। পরিচয় গোপন রাখতে বড় হোটেলের বদলে ছোট লজে রাত কাটানোর পথও বেছে নিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দেবরাজের স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সিকেও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে তাঁর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আদালত দেবরাজকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই আর্থিক নথি, সম্পত্তির যোগসূত্র এবং ভিনরাজ্যের ব্যবসায়িক বিনিয়োগের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে সিট। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই মামলায় নতুন পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রের ইঙ্গিত।














