পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নকে গতি দিতে বড়সড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগে আরও একধাপ এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিগগিরই রাজ্যে মোট প্রায় ২,১০০ কোটি টাকার দুটি শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে। একই সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও সরকার আলোচনা করবে বলে জানান তিনি। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খুব দ্রুত দুটি বড় শিল্প বিনিয়োগের ঘোষণা হবে।”
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি হোসিয়ারি শিল্পে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এবং একটি আধুনিক ইস্পাত কারখানায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম প্রকল্পটি শ্রমনির্ভর হওয়ায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই প্রশাসনের আশা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “শুধু এই দুটি প্রকল্প নয়, চলতি বছরের মধ্যেই আরও কয়েকটি বিনিয়োগের প্রস্তাব সামনে আনা হবে।” তাঁর মতে, বিনিয়োগ টানতে শিল্পবান্ধব নীতি ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা-স্তরের কমিটি নতুন শিল্প নীতির খসড়া তৈরি করছে। সরকার মনে করছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই নতুন নীতির ঘোষণা করা হতে পারে। শিল্পমহলের মতে, নীতি, পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ক্ষেত্রেই আস্থা তৈরি করতে পারলে নতুন লগ্নির পথ আরও সহজ হবে। সিঙ্গুর প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, “টাটাকে সিঙ্গুরে জমি দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা চাই টাটা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তুলুক। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে।” উল্লেখ্য, টাটা গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই অসমে কয়েক হাজার কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প আনার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিল্প ও কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে সরকার যে নতুন বার্তা দিতে চাইছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই কৌশলেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।














