তামিলনাড়ুর নামাক্কালের একটি টেক্সটাইল কারখানায় শারীরিক নিগ্রহ এবং মজুরি না দেওয়ার অভিযোগে কাজ ছেড়ে পালিয়ে বাড়ি ফিরলেন ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার প্রায় ১০০ জন আদিবাসী পরিযায়ী শ্রমিক। গত দুদিনে এই শ্রমিকরা নিজেদের জেলায় ফিরে এসেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কারখানায় খারাপ খাবার, কঠোর নিয়ম এবং কর্মীদের দুর্ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়।
চক্রধরপুর এলাকার বাসিন্দা অনিল সামাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, কয়েক মাস আগে তাঁরা ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সমস্যার কথা জানিয়ে কাজ ছাড়তে চাইলে তাঁদের মারধর করা হয় এবং কারখানা থেকে বেরোতে বাধা দেওয়া হয়। অন্য এক শ্রমিক মানকি হেসসা অভিযোগ করেন, কাজের বিষয়ে মতপার্থক্য হওয়ায় কারখানার কর্মীরা তাঁকে লাঠি ও মেশিনের যন্ত্রাংশ দিয়ে মারধর করে। এমনকি মহিলা শ্রমিকরাও নিগ্রহের হাত থেকে রেহাই পাননি। প্রিস্কা হোরো নামে এক মহিলা শ্রমিক জানান, পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে অনেক শ্রমিক পাঁচিল টপকে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, নামাক্কালের ওই ইউনিটে রাজ্যের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। গত ২২ এপ্রিল বিষয়টি স্টেট মাইগ্রেন্ট কন্ট্রোল রুমের নজরে আসার পর থেকেই শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শ্রমিকদের একাংশ ইতিপূর্বেই সালেম থেকে ট্রেনে চেপে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছেছেন, বাকিরাও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বকেয়া মজুরি মেটায়নি। এমনকি বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিটের টাকাও ধার করে বা পরিবারের থেকে চেয়ে তাঁদের জোগাড় করতে হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনের তরফে তাঁদের যাবতীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে













