Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

তালিকা সংশোধনে বাদ লক্ষ লক্ষ নাম, কমিশনকে সুপ্রিম তোপ কুণাল-চন্দ্রিমার

তালিকা সংশোধনে বাদ লক্ষ লক্ষ নাম, কমিশনকে সুপ্রিম তোপ কুণাল-চন্দ্রিমার

রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের নাম ছেঁটে ফেলার নেপথ্যে নির্বাচন কমিশনের ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ কাজ করছে। সোমবার তৃণমূল ভবন থেকে ঠিক এই ভাষাতেই সরব হলেন দলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার পর নতুন করে নথিপত্র নিয়ে আপত্তি তুলে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা হচ্ছে। মূলত বিরোধী কণ্ঠরোধ ও ভোটারদের অধিকার হরণ করতেই কমিশন এই ‘পরিকল্পিত কৌশল’ নিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।

 

তৃণমূল নেতৃত্বের মূল আপত্তির জায়গাটি হলো কমিশনের একটি সাম্প্রতিক চিঠি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের শুনানির শেষ দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। অথচ ঠিক তার দু’দিন পর, অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি শক্তি শর্মার সই করা একটি চিঠি তাঁদের হাতে আসে। ওই চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ , ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’ বা রাজ্যের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার নথি ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না।এই নির্দেশিকাকে ঘিরেই কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক গত ২১ জানুয়ারি এই বিষয়ে দিল্লির কাছে স্পষ্টিকরণ চেয়েছিলেন। কিন্তু কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে এক মাস সময় নষ্ট করে শুনানি শেষ হওয়ার পর জবাব পাঠাল।

 

চন্দ্রিমা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় একমাস সময় নষ্ট করে এবং শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ঠিক পরে সেই চিঠির জবাব পাঠিয়েছে ৷ এর ফলে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ এই নথিগুলি জমা দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষে নতুন করে অন্য কোনও নথি জমা দেওয়ার আর সুযোগ থাকল না ৷’ সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ টেনে চন্দ্রিমা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরেও কিছু নথি গ্রাহ্য করা যাবে। তাঁর প্রশ্ন, বাংলায় নিজের জমি না থাকলে কেউ আবাসের টাকা পায় না। তাহলে জমি সংক্রান্ত নথি গ্রাহ্য হলেও কেন আবাসের শংসাপত্র বাতিল করা হবে? তাঁর মতে, ‘এটা কী সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করা নয় ?’ ঘটনাটিকে ‘পিছনের দরজা দিয়ে ডাকাতি’ বলে তোপ দেগেছেন কুণাল ঘোষ।

 

তাঁর প্রশ্ন, যখন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছিল, তখন কেন এই নির্দেশ দেওয়া হলো না? কুণালের অভিযোগ, বিজেপি গণতান্ত্রিক পথে না পেরে কমিশনকে ‘দলদাস’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষায়, ‘গত 14 ফেব্রুয়ারি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত সমস্ত শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ সাধারণ মানুষ তাঁদের যা-যা বৈধ তথ্য ছিল, তা আপলোড করে দিয়েছে ৷ এখন 16 তারিখে এসে কমিশন বলছে ওই নথি চলবে না ! এটা কোন ধরনের ন্যায়বিচার ?’ তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, অন্য রাজ্যে এই নথি চললেও বাংলার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। এই নির্দেশিকাকে অবৈধ ও অনৈতিক আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

READ MORE.....