সময় মাত্র তিন দিন। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় এবার কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল তৃণমূল। মঙ্গলবার রাতে কালীঘাটের বাসভবনে কাউন্সিলর এবং বিএলএ-২দের নিয়ে জরুরি বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও রাস্তা, গলি যেন বাদ না যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি শেষ হচ্ছে। তার আগেই রাজ্যের প্রতিটি বুথের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার নিদান দিলেন তিনি।
এক ইঞ্চি জমিও বিজেপিকে ছাড়তে নারাজ নেত্রী কর্মীদের উদ্দেশে সাফ জানিয়েছেন, এই ক’দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উদ্বেগের কারণ ‘নো ম্যাপিং’ ভোটাররা। বৈঠকে উপস্থিত প্রায় ২৮০ জন বিএলএ-কে তিনি নির্দেশ দেন, যাঁদের ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এলাকার প্রতিটি নতুন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা নিশ্চিত করতে হবে। বিজেপিকে আক্রমণ করে নেত্রী এদিন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ইশারায় বেছে বেছে মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এই নিয়ে ইতিপূর্বেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জোড়াফুল শিবির। মাইক্রো অবজারভারদের প্রসঙ্গে মমতা এদিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, শীর্ষ আদালতের রায়ে বহিরাগত অফিসারদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে।
এখন শেষ কথা বলবেন ইআরও-রাই। বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম এবং দেবাশিস কুমারের উপস্থিতিতে বিএলএ-দের মনোবল বাড়াতে একগুচ্ছ দাওয়াই দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, কিন্তু শুনানির দিন পর্যন্ত কোনও ঢিলেমি চলবে না। কাদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে, কারা শুনানিতে যেতে পারছেন না, সব তথ্য ডায়েরিতে নোট করে রাখতে হবে। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, মূলত ‘ম্যান মার্কিং’ করে নজরদারি চালাতে হবে প্রতিটি পাড়ায়। বিজেপির মতো ‘বাংলাবিরোধী জমিদারদের’ রুখতে তালিকায় নজরদারি বাড়িয়ে তৎক্ষণাৎ দলকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেন তিনি। কাউন্সিলরদের কাজ হবে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা মিলিয়ে দেখা যে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। শেষবেলায় কোমর বেঁধে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি সারতে তৃণমূল এখন পাখির চোখ করেছে নিখুঁত ভোটার তালিকাকেই। ফাইল ফটো।













