নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধান নিয়ে এবার আরও বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ৬ অক্টোবর ভোটের পর ৯ অক্টোবর যে ফল সামনে আসবে, সেখানে বিজেপির জয় কতটা ব্যবধানে হবে, তা এখনই কল্পনা করা কঠিন। মঙ্গলবার রাতে রেয়াপাড়ায় দলের কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী এমন মার্জিনে জিতবেন, তা কল্পনার বাইরে।”
প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে হাসিরানি ছাড়াও ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী এবং স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটের আগে বুথভিত্তিক সংগঠন, প্রচার এবং জয়ের ব্যবধান নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে শুধু প্রচারের দাবি না বলে ভোটের আগে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসাবেও দেখছে বিজেপি শিবির। নন্দীগ্রাম শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২১ সালে এই আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন তিনি। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই জেতেন শুভেন্দু। পরে নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পবিত্র করকে প্রায় ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এ বার উপনির্বাচনের আগে সেই ব্যবধানকেই আরও বড় করার দাবি উঠেছে বিজেপির প্রচারে। এর আগে শুভেন্দু বলেছিলেন, ২০২১-এর জয়ের অন্তত পাঁচ গুণ ব্যবধানে হাসিরানি জিতবেন।
বুধবার সেই দাবিরই আরও চড়া সংস্করণ সামনে এল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো মন্তব্যও টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন তিনি নন্দীগ্রামে ১ নম্বর হবেন। ২০২৬ সালেও নন্দীগ্রামে পবিত্র কর এক নম্বরে থাকবে বলেছিলেন। কী হয়েছিল তা সবাই জানে। এখন শুধু ভোটের ফল দেখার জন্য অপেক্ষা করুন।” নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবাড় বুথের ভোটার এখনও শুভেন্দু। নিজের বুথে ৬ অক্টোবর ভোট দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে উপনির্বাচনের ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনের হিসাব নয়, শুভেন্দুর নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটিতে বিজেপির প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে, তারও পরীক্ষা হতে চলেছে।














