সামনে মীনাক্ষী, দীপ্সিতা, সৃজন, শতরূপ। মঞ্চে তরুণ মুখ, মিছিলে তরুণদের ভিড়, সমাজমাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি। কিন্তু পার্টির খাতা খুললেই ছবিটা বেশ আলাদা। সিপিএমের নিজের সাংগঠনিক নথিতেই উঠে এসেছে, নতুন প্রজন্মকে দলে টানার ক্ষেত্রে বড়সড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে। দলীয় পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সিদের অংশ এখন মাত্র ৪.৫৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, একশো জন সদস্যের মধ্যে পাঁচ জনও তিরিশের নীচে নন। আরও চমকপ্রদ তথ্য—রাজ্যের ৬৪.৯০ শতাংশ পার্টি শাখায় কোনও এজি সদস্য নেই। অথচ এই স্তরেই নতুন কর্মী তৈরির কাজ হওয়ার কথা। ফলে মিছিল থেকে সদস্যপদে যাওয়ার সিঁড়িটাই যেন মাঝপথে উধাও। এখানেই সিপিএমের ‘নতুন মুখ’ নীতির মজাটা। নেতৃত্বে তরুণ মুখ আনা হচ্ছে, ভোটে দাঁড় করানো হচ্ছে, কেন্দ্রীয় কমিটিতেও জায়গা মিলছে। কিন্তু নিচের ঘরে সেই তারুণ্যের উপস্থিতি পৌঁছচ্ছে না।
দলেরই একাংশের বক্তব্য, গত দুই-আড়াই দশকে সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাছবিচারের ফল এখন সামনে এসেছে। শুধু বয়স নয়, শ্রেণিগত চরিত্র নিয়েও আত্মসমালোচনা রয়েছে। ‘সর্বহারা’র দল হিসাবে পরিচিত সিপিএমের সদস্যপদে মধ্যবিত্তের আধিপত্য নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খেতমজুর, গরিব কৃষক, শ্রমিক, তফসিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘুদের অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’বছরে এই অংশের সদস্যপদ ৩০ শতাংশের বেশি করার কথা বলা হয়েছে। মহিলাদের অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দলীয় হিসাব বলছে, ২০২১ সালে মহিলা সদস্যের হার ছিল ১০.৮ শতাংশ।
২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১১.৪ শতাংশ। অর্থাৎ তিন বছরে বৃদ্ধিটা আধ শতাংশের একটু বেশি। আর সমাজমাধ্যম? সেখানেও সিপিএমের নিজস্ব অভিযোগ—কাজের মাঠের বদলে আত্মপ্রচারে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। ‘অকমিউনিস্টসুলভ আচরণ’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য ধর্মতলার ইনকিলাব সমাবেশের ভিড় দেখিয়ে নতুন করে আশার ছবি আঁকার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দলীয় নথির অঙ্ক বলছে, সমাবেশের মঞ্চ আর বুথের বাস্তবতা এখনও এক নয়। তাই শাখাগুলিকে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, সেই তিন মাসে সিপিএম নতুন সদস্য খুঁজবে, না কি পুরনো খাতাতেই নতুন মুখ খুঁজে বেড়াবে।














