Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে অসলোতে জোর জল্পনা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে অসলোতে জোর জল্পনা

বিশ্বজুড়ে তীব্র যুদ্ধ, রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আন্তর্জাতিক মেরুকরণের আবহে এ বার কার হাতে উঠবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আগামী ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলো থেকে মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মানজয়ীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তার আগেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ভবিষ্যৎ বক্তাদের সম্ভাব্য তালিকায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাশাপাশি এক বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে ‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন’ (আইএসএস)-এর নাম।

 

নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি বৈধ মনোনয়ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। মনোনয়ন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথি আগামী ৫০ বছর পর্যন্ত কঠোর গোপনীয়তায় আবদ্ধ থাকলেও অসলোর স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (পিআরআইও)-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ নাম। সংস্থার ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হাকন গেরলোর মতে, বর্তমান বিশ্ব যখন তীব্র বিভাজন ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকছে, তখন নাসা, রসকসমস ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ সমন্বয়ে কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান মহাকাশ স্টেশনটি আন্তর্জাতিক মৈত্রীর এক বিরল প্রতীক।

 

ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সেখানে মার্কিন ও রুশ নভোচারীদের একসঙ্গে কাজ করার নজিরকে শান্তির এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন এবং একাধিক নেতা তাঁকে মনোনীতও করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা ও ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের কারণে তাঁর নাম ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

 

একই সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নজর কাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নামও সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। সংকটের আবহে মানবাধিকার ও যুদ্ধক্ষেত্রের কর্মীদের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের শিশু অধিকার রক্ষাকর্মী মাইকোলা কুলেবা, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এবং সুদানের গৃহযুদ্ধে প্রাণ বাঁচানো স্থানীয় ত্রাণ নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ (ইআরআর)-এর নাম জোর চর্চায় রয়েছে। বিগত দুই বছরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড বৃদ্ধির ঘটনায় আলোচনায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)।

 

পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে একাধিক রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত (আইসিজে)-র নামও বিবেচনাধীন। নারী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে গাজার শল্যচিকিৎসক সারা আল-সাক্কা এবং রুশ বিরোধী নেত্রী ইউলিয়া নাভালনিয়ার নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের নোবেল সপ্তাহ। যথাক্রমে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও সাহিত্যের পর শুক্রবার ৯ অক্টোবর ঘোষিত হবে শান্তি পুরস্কার। বিজয়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে স্মারক স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পুরস্কারমূল্য হিসেবে প্রদান করা হবে ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা, ভারতীয় মুদ্রায় যার অর্থমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।

READ MORE.....