পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে ফেরার যাবতীয় সম্ভাবনায় চিরতরে দাঁড়ি টানলেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মহম্মদ আমির। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘লোকাল প্লেয়ার’ হিসেবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের হয়ে তাঁর খেলার অধ্যায়টি এখন পুরোপুরি অতীত। ক্রিকেট সাংবাদিক ও ইউটিউবার মহম্মদ ফুরকান ভাটির সঙ্গে কথোপকথনে আমির তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, “আমি এখন একজন ব্রিটিশ লোকাল।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর মতো টুর্নামেন্টগুলিতে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখাতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও নথিপত্র সই করতে হয়। সেখানে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হয় যে, লোকাল প্লেয়ার হিসেবে খেলার সময় অন্য কোনো দেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা যাবে না। তাই আমার পাকিস্তানি ক্যারিয়ারের পর্বটি এখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ।” স্ত্রী নার্গিস খানের সূত্রে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট লাভ করেছেন আমির। এর ফলে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কাউন্টি ক্রিকেটে আর বিদেশি কোটায় নয়, বরং স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবেই তাঁর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হলো। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথমবার অবসর নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরলেও সেই বছরের শেষভাগে ফের অবসর নেন।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর পুনরায় ফেরার জল্পনা থাকলেও, নতুন আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মের কারণে সেই সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে গেল। পাকিস্তানের হয়ে ৩৬টি টেস্টে ১১৯টি, ৬১টি ওয়ানডেতে ৮১টি এবং ৬২টি টি-টোয়েন্টিতে ৭১টি উইকেট শিকার করেছেন আমির—সব মিলিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক উইকেটের সংখ্যা ২৭১। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেওয়া বিধ্বংসী স্পেল এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ১৭টি উইকেট নেওয়ার মতো অবিস্মরণীয় কীর্তি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছেড়ে এবার ব্রিটেনের ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজের বাকি ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই বাঁহাতি তারকা।













