মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে এবার খোদ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার ভরতপুরের বহিষ্কৃত এই তৃণমূল বিধায়ক প্রস্তাবিত ‘বাবরি’ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে হুঙ্কার দিলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এক লক্ষ সমর্থক নিয়ে তিনি এসপি অফিস ঘেরাও করবেন। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, পুলিশ সুপার তাঁকে খুনের জন্য ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগ করেছেন। এই আবহে বুধবার ছেতিয়ানির মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মসজিদ নির্মাণের প্রথম ইট গেঁথে হুমায়ুন কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, কেবল আবেগ নয়, বাস্তবেই তিনি এই নির্মাণে অনড়।
বুধবার সকাল থেকেই ভরতপুরের ছেতিয়ানি মাঠে জনজোয়ার নামে। প্রায় ১১ বিঘা জমির ওপর এই মসজিদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন হুমায়ুন। শিলান্যাসের দিনেই সেখানে জমা পড়েছে পাহাড়প্রমাণ বালি, সিমেন্ট আর রড। কয়েক কোটি টাকার অনুদানও সংগ্রহ হয়েছে বলে খবর। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন সাফ জানান, ‘১৪ তারিখ বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এসপি কার্যালয় ঘেরাও হবে। কোনও নোটিশ দেব না। এক লক্ষ লোক নিয়ে যাব।’ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমার পাশে আছেন। কোনও ষড়যন্ত্র করে কেউ কিছু করতে পারবে না।’ কাল সকালেও একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন তিনি।
সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে মরিয়া এই নেতা। গত ডিসেম্বরেই তিনি নতুন দল জেইউপি গঠন করেছেন। বিরোধীদের অনেকেই মনে করেছিলেন, বাবরি মসজিদের আবেগ উসকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক সংহত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তবে বুধবার মসজিদের মূল ভবন ও প্রবেশদ্বারের ইট গেঁথে হুমায়ুন সব জল্পনায় জল ঢেলেছেন। কাজ শেষ হতে দু’বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। যানজট এড়াতে জাতীয় সড়কে লরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার অবশ্য জানিয়েছেন, কড়া নজরদারিতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোটের মুখে হুমায়ুনের এই ‘বাবরি’ তাস ও সরাসরি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করার ঘটনা নবাবের জেলার রাজনীতিতে বড়সড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।













