ঘাসফুল বা গেরুয়া শিবির, কাউকেই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার নদিয়ার পলাশী থেকে ‘বাবরি যাত্রা’ শুরু করে তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে তুলোধোনা করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেউপি) প্রধান। তাঁর সাফ কথা, ‘বিজেপিকে আটকাব আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতার ধারে কাছেও আসতে দেব না।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন এদিন স্পষ্ট জানান, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক কারও একচেটিয়া অধিকার নয়। তাঁর কথায়, ‘মুসলিম ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার সম্পত্তি নয়। এতদিন মুসলিম ভোটারদের বিজেপি যুযুর ভয় দেখানো হয়েছে। তাদের কাছে কোনও বিকল্প ছিল না৷ তাই তৃণমূলকে সমর্থন করেছে।’
এদিন পলাশী থেকে বেলডাঙা পর্যন্ত বিশাল বাইক ও গাড়ির মিছিলের নেতৃত্ব দেন পাগড়িধারী হুমায়ুন। কখনও বাইকে স্টান্ট দেখিয়ে, কখনও হুডখোলা গাড়িতে চড়ে সমর্থকদের উদ্দীপনা বাড়ান তিনি। রেজিনগর থেকে হাজার হাজার সমর্থক এই মিছিলে শামিল হন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে যাত্রার পথ কাটছাঁট করা হলেও, পরীক্ষা শেষে পাঁচশো গাড়ি নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার পর্যন্ত অভিযানের ডাক দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি যে একা নন, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতা। হুমায়ুন জানান, মিমের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত। বামফ্রন্ট ও আইএসএফ-এর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রাজ্যর ২৯৪টি আসনেই লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর জোট। যদিও এই দীর্ঘ পদযাত্রা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। যানজটে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও মেজাজি মেজাজেই নিজের শক্তির প্রদর্শন সারলেন হুমায়ুন কবীর।












