মঙ্গলবার ঢাকায় তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে স্পিকারকে পাঠিয়ে মোদী সরকার যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বজায় রাখল, তেমনই দেশের বিরোধী শিবিরকেও কৌশলী বার্তা দিল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টে নাগাদ সংসদের দক্ষিণ প্লাজ়ায় বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার কথা।
বিদেশ মন্ত্রকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘আগামী মঙ্গলবার আয়োজিত তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথপাঠ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্পিকার ওম বিড়লা।’ দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আজকের নয়। দুই দেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ-সংস্কৃতি সবটাই পারস্পরিক ভাবে সম্পর্কিত। তাই বাংলাদেশের বুকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারকেও ভারত স্বাগত জানাচ্ছে।’ বিড়লার এই সফর দুই দেশের ‘আত্মীকতা’ বৃদ্ধি করবে বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি। বিএনপি’র বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন আগেই যে তারেকের শপথ অনুষ্ঠানে মোদিকে আমন্ত্রণ করার জন্য দলে চিন্তা ভাবনা রয়েছে । তারেকও মোদিকে আমন্ত্রণে উদ্যোগী। তবে এই বিবৃতির পর মোদি কি ঢাকায় যাবেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল সর্বত্র । আর তাতেই সিলমোহর দিল কেন্দ্র ।
তারেক রহমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন ঢাকা যাচ্ছেন না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছিল। তবে সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আগে থেকেই একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। সেই ব্যস্ততার কারণেই তাঁর বদলে ওম বিড়লাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্র মুখ খোলেননি । অন্যদিকে, লোকসভায় বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আবহে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া ঘরোয়া রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই অনুষ্ঠানের জন্য ভারত, পাকিস্তান ও চিন-সহ মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইসলামাবাদ থেকে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আসার সম্ভাবনা থাকলেও বেজিং এখনও তাদের প্রতিনিধির নাম জানায়নি। ঢাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথগ্রহণ হবে। এরপর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করে বিকেল ৪টে নাগাদ নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। খালেদা-পুত্রের এই অভিষেক অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।















