‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছো। তোমাদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমি চার্জশিট দিচ্ছি। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক’। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটগ্রহণের অনেক আগে প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী এবং তার দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার প্রশ্ন, ‘তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেফতার হবে? আগের বারও নন্দীগ্রামে এ ভাবে লুট করেছ! রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ।
যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন’। শুভেন্দু অধিকারীর নাম উচ্চারণ না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে কাকে কাকে গ্রেফতার করতে হবে, ভোটের পর নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছো। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে। সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়। বাদ বাকিটা দেয় বাইরের নেতাকে। আমি সবটাই জানি’। এদিন হলদিয়ার সভায় মমতা বলেন, ‘আপনারা এ বারে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য, যদি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কোনও গদ্দারের হাতে বিক্রি করতে না চান, তা হলে সব আসনে, সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে জোড়াফুলকে ভোট দিন’। তাঁর কথায়, ‘এক ভাই সাংসদ।
তুমি বিধায়ক। আর এক ভাই বিধায়ক। পুরো পরিবারটাকে ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারের এমএলএ ইলেকশনে আমি ছাড়া কেউ দাঁড়ায়নি’। মমতার আরও বক্তব্য, ‘আমি এদের আজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আগে কংগ্রেস করত। তার আগে তিন-চার বার করে হেরেছে। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। আর পারব না দিতে। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধে ভাতে আছে’। বলেন, ‘এ বারেরও লোডশেডিং করে দেবে, ছাপ্পা ভোট করে দেবে। নন্দীগ্রামেই ৪০ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে এনআইএ। কেন বাবা? এই ছ’বছর কি তুমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছিলে! আজ বলছ, এক হাজার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করতে হবে’। বাদ যায়নি একুশের নন্দীগ্রামে হারের প্রসঙ্গ।
মমতার সাফ কথা, ‘রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করা হয়েছে। কাউন্টিং লুট হয়েছে। আমি চাইলে তখনই এর শেষ দেখে ছাড়তে পারতাম, কিন্তু ভবানীপুর থেকে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তখন আর প্রেশার দিইনি’। বলেন, ‘পুলিশকে আমি কোনওদিন দেখিনি যে তারা বিজেপির পক্ষ হয়ে কাজ করে। এক পক্ষ হয়ে কাজ করছে’। মঙ্গলবার হলদিয়ার সভা থেকে অধিকারী পরিবারকে তুলোধোনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীতে মেদিনীপুরের দায়িত্ব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেবেন বলে জানিয়ে অধিকারী পরিবারকে উৎখাতের ডাক দিলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নীলবাতি, লালবাতি লাগিয়ে গাড়িতে সবাই ঘুরছে। তোমাদের এত অহংকার! একভাই এমপি, একভাই এমএলএ, পুরো পরিবারকে ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারে আমি ছাড়া আর কেউ বিধানসভা ভোটে দাঁড়ায়নি’। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকারী পরিবারের ক্ষোভের কথা বলেন মমতা। বলেন, ‘ওর উপর কিসের এত রাগ? আমি বলে যাচ্ছি, আমাগীদিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব পাবে অভিষেকই’। ব্যারাকপুরের নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বাংলা দখল করতে বিজেপি ১০০ টা ফ্লাইট, ২০০ খানা হেলিকপ্টার এবং দু-লক্ষ বহিরাগত নিয়ে এসেছে। আমরা বারবার কেন্দ্রকে বলি যে, পাটের ব্যাগ নাও।
ওরা নেয় না। পাটকল বন্ধ করে দেয়। আর আমরা খোলার চেষ্টা করি। বাজেটে বলেছিলাম ৪ শতাংশ ডিএ দেব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে। আমি বলব, তুমি সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছাড়ো। এটা তোমার কাছে যাওয়াই উচিত নয়। কারণ, এটা হল ভোটের আগের ঘোষণা। আর ভোট হল পরের ঘোষণা। ২৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছি। আর চার শতাংশ ডিএ যেটা ঘোষণা করেছি, সেটা এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই পেয়ে যাবেন। যা কথা দিই, আমরা সেটাই রাখি’।














