কৃষ্ণনগর আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আগামী ২৮ অগস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। সোমবার মামলাটির জরুরি শুনানি হতে পারে।ঘটনার সূত্রপাত মহুয়া মৈত্রের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তাঁর সাংসদ কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষারত ভিড়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, এভাবে ডিম ছোড়ার থেকে বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন। তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ হবে না। ওই মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক জানান, এর আগে একাধিকবার মহুয়া মৈত্রকে সমন পাঠানো হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি এবং জবাবও দেননি।
সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যদিও সাংসদের দাবি, সংসদের অধিবেশনে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।হাইকোর্টে আবেদনে মহুয়ার আরও দাবি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ২২৮ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন। একইসঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনের নিষ্পত্তি না করেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংসদ।বিষয়টি বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে উত্থাপন করেন মহুয়ার আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ। তিনি মামলাটির জরুরি শুনানির অনুমতি চান। আদালত সেই অনুমতি দিয়েছে এবং সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একজন সাংসদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তার পরেই হাইকোর্টে তা চ্যালেঞ্জ করার ঘটনায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। মহুয়ার আবেদন গ্রহণ করে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। সোমবারের শুনানিতে পরোয়ানা সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।














