Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

যাদবপুরে মোছা হলো ভারত বিরোধী স্লোগান

যাদবপুরে মোছা হলো ভারত বিরোধী স্লোগান

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ভারত বিরোধী যাবতীয় স্লোগান মুছে ফেলার পাশাপাশি দেশ বিরোধী স্লোগান এবং কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে চলতে দেওয়া হবে না বলে হুংকার দেওয়ার পরেই চূড়ান্ত অ্যাকশন শুরু হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। রবিবার সকাল থেকেই রীতিমতো সাদা রং করে মুছে দেওয়া হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে যত্রতত্র লিখে রাখা মাওবাদীদের সমর্থনে এবং পাকিস্তানের সমর্থনে লেখা একাধিক স্লোগান। গত শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে দেশ বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ করার পাশাপাশি যাদবপুরের দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের বন্দেমাতরম গাওয়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দশ সহস্র কন্ঠে গাওয়া হয়েছিল বন্দেমাতরম গান।

 

আর সেই কর্মসূচি থেকেই যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না। ৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত। ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নো ভোট টু নরেন্দ্র মোদী। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। কিসের আজ়াদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজ়াদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজ়াদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজ়াদি? সিআরপিএএফ-কে যখন জঙ্গিরা মারে, বিতান অধিকারীদের যখন হিন্দু বলে পহেলগাঁওয়ে খুন করা হয়, সে দিন এদের মিছিল হয় না। অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বার করে। বলে, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। অবিলম্বে পাকিস্তানে ভারতীয় হানা বন্ধ করো! হিসাবের শেষ পর্যায় এসে গিয়েছে।

 

নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব। এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী।

 

আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরে আজ সকাল থেকে কার্যত যাদবপুরে শুরু হয়েছে সেই জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের একাধিক দেওয়ালের বিতর্কিত লেখা ও স্লোগানের ওপর সাদা রং লেপে তা মুছে দিতে শুরু করেছেন কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার অভাবেই কি এই পদক্ষেপ? রাজনৈতিক মহলে এমন প্রশ্ন উঠলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার স্বার্থে এটি সম্পূর্ণ একটি রুটিন কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই।

 

তাদের দাবি, যাদবপুর চিরকালই সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে। ক্যাম্পাসের দেওয়ালে থাকা স্লোগানগুলি আরএসএস তথা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধেই তৈরি হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকে চলে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদী চেতনাকে চুনকাম করে মুছে দেওয়া যাবে না। দেওয়াল মুছে এই মনোভাব দমন করা সম্ভব নয় জানিয়ে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আবারও একই ধরনের সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান লিখে দেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে এসএফআই।

READ MORE.....