২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নবান্ন দলের পরে এবারে বিজেপির টার্গেটে কলকাতা এবং হাওড়ার পুরসভা। যদি বছরে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কলকাতার পুরনির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই দুই পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার জন্য ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিশেষ নির্বাচনী কমিটি।
এবারে আসন্ন দূর্গা পূজার ঠিক পরেই দুই পুরসভা ভোট গ্রহণ হতে পারে বলে সম্ভাবনার মধ্যেই রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর মুরলীধর সেন লেনে বসলো নির্বাচনী কমিটির বিশেষ বৈঠক। ইতিমধ্যেই দুই জায়গাতেই নির্বাচনী ইনচার্জ নিয়োগ করেছে রাজ্যের শাসক শিবির। কলকাতায় সুকান্ত মজুমদার ও হাওড়ায় রাহুল সিনহাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জোরকদমে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। ঘনঘন সভা, বৈঠক, জনসংযোগ চলছে। কলকাতা পুরসভার ভোট পরিচালনার ইনচার্জ হিসেবে দলের থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে সুকান্ত মজুমদার নেমে পড়েছেন কাজে। পুর নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে চালানো হবে এবং কীভাবে পর্যালোচনা করা হবে, তা এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। এ বিষয়ে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সুকান্ত মজুমদার।
তবে অবশ্যই ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারে নামবে বিজেপি, যাতে পুর নির্বাচনে দল সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘ঝাড়াই বাছাই করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা, সৎ ভাবমূর্তি, জনসংযোগ-এগুলো দেখেই প্রার্থী হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বা বিজেপি করে, এরকম কিছু নেই। যে ভোটে জিততে পারবে, তাকে টিকিট দেওয়া হবে।’ তাহলে কি আসন্ন পুরভোটে ‘নব্য বিজেপি’দেরও টিকিট পাওয়ার চান্স রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত বলেন, ‘এই বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আর কারা নব্য বিজেপি? বিজেপি তো কাউকে যোগদান করায়নি। এখন কেউ যদি নিজেকে বিজেপি নেতা মনে করে, তাহলে তো কিছু করার নেই।’
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কলকাতার পুরভোটে বিজেপির ভালো ফলাফল নিয়ে সুকান্তের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে ১৪৪টি ওয়ার্ডের হিসেবে ১০১টি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। যদি ২০৯টি আসন হয়, তাহলে সহজেই ১৭০ থেকে ১৮০টি আসনে জয়ী হবে দল। তার প্রেক্ষিতে মমতার অনুগামী বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন আগামী নির্বাচনে কলকাতার পুর বোর্ডের দখল থাকবে তৃণমূলের হাতেই। কুণালের দাবি, ‘কলকাতা পুর বোর্ডে আমরাই থাকব। ওরা যে আসন সংখ্যা বলছে, সেটা আমরাই থাকব। আমাদের একটাই প্রতীক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাসের উপর জোড়া ফুল আগে কেউ দেখেছিলেন?’













