কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধান পরিষদের ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে জোরালো বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসসিও-র ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে আগামী ২৫ বছরের সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং সুযোগ—এই তিন মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, কোনো সংঘাতই সামরিক শক্তিতে মেটানো সম্ভব নয়, আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। সন্ত্রাসবাদকে মানবতার জন্য চরম হুমকি আখ্যা দিয়ে এর সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংসের দাবি জানানোর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা দ্বিচারিতা বরদাস্ত করা চলবে না।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে ভারত সেখানে মানবিক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, সদস্য দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে বাণিজ্যিক সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেও মোদী স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপ এবং যুবশক্তির বিকাশের প্রসারে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা করেন, চলতি বছরের শেষভাগে ভারত প্রথম ‘এসসিও সভ্যতা সংলাপ ফোরাম’-এর আয়োজন করতে চলেছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপ্তিতে ‘বিশকেক ঘোষণা’ গৃহীত হয়, যার মধ্যে এসসিও সনদে ইংরেজিকে অন্যতম সরকারি ভাষার মর্যাদা প্রদান, যুব বিজ্ঞানী ফোরাম এবং তরুণ লেখক সমাবেশের মতো ভারতের একাধিক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু নিরাপত্তা ও মাদক পাচার রোখার মতো ক্ষেত্রে কুড়িটিরও বেশি যৌথ সিদ্ধান্ত ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।














