Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

অভ্যাসে নয়, জলের মাপে রবি চাষ! বার্তা কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর

অভ্যাসে নয়, জলের মাপে রবি চাষ! বার্তা কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর

অভ্যাসবশত গতানুগতিক চাষের ধারা ভেঙে ভূগর্ভস্থ ও প্রাকৃতিক জলের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই আসন্ন রবি মরসুমের সুনির্দিষ্ট রণকৌশল চূড়ান্ত করতে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া বার্তা দিল কেন্দ্র। পরিবর্তনশীল জলবায়ু এবং খরিফ মরসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের চরম বৈষম্যের বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবার কৃষকদের উপযুক্ত ফসল বাছাই ও জলসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

 

সোমবার নতুন দিল্লির পুসায় অবস্থিত জাতীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে আয়োজিত রবি অভিযান দুই হাজার ছাব্বিশ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী জাতীয় কৃষি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাজ্যগুলির প্রতি এই স্পষ্ট আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ুর ঘনঘন খামখেয়ালিপনার জেরে দেশে এক বৈপরীত্যের ছবি তৈরি হয়েছে; যেখানে কোথাও প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও তীব্র খরা ও জলের হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় অন্ধভাবে একই ফসলের চাষ চালিয়ে গেলে উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। এমতাবস্থায় রবি মরসুমের বীজ বপন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে নিজেদের জলাধারের জলের স্তর, সেচ পরিকাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং মাটির আর্দ্রতার স্তর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমাপ করার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভূগর্ভস্থ ও নদী-জলাশয়ের জলের টান যেখানে স্পষ্ট, সেখানে শীতকালীন ফসলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে বীজ বোনার আগে ও পরবর্তী পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট সেচ পরিকল্পনার ওপর। কৃষিমন্ত্রী সতর্ক করে জানান, যে সমস্ত অঞ্চলে আসন্ন দিনগুলিতে জলের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে কোনো অবস্থাতেই যেন অতি-জলনির্ভর ফসলের চাষ না করা হয়। কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে তাঁদের নিজ নিজ ভৌগোলিক এলাকার জন্য উপযোগী ও কম জল লাগে এমন ফসল এবং উন্নত জাতের বীজ বেছে নেওয়ার জন্য রাজ্য কৃষি দপ্তরগুলিকে কার্যকর পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। বিশেষ করে খরিফ মরসুমে আমন ধান কাটার পর যে সমস্ত জমি ফাঁকা বা পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে, সেখানকার মাটির অবশিষ্ট আর্দ্রতাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কাজে লাগিয়ে ডাল ও তৈলবীজের চাষ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

 

এই লক্ষ্যপূরণে আঞ্চলিক আবহাওয়া ও মাটির গুণের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ছোলা, মুসুর এবং সর্ষের মতো লাভজনক রবি ফসলের প্রসার ঘটাতে রাজ্যগুলিকে জেলাভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, কৃষকরা স্বাভাবিকভাবেই সেই সমস্ত ফসল ফলাতে বেশি আগ্রহী হন যেগুলোতে আর্থিক মুনাফা ও বিক্রির সুরক্ষা বেশি। ফলে কার্যকর সরকারি কেনাবেচা ব্যবস্থা বা প্রকিউরমেন্ট এবং সরাসরি বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে ফসলের বৈচিত্র্যায়ন সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে বাজারের পরিকাঠামোগত সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে কৃষিমন্ত্রী জানান, কেবল গতানুগতিক গম ও ধানের মধ্যেই সরকারি ক্রয় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; ডাল ও তৈলবীজের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী সরকারি কেনাবেচা ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

 

সেই সঙ্গে গ্রামীণ স্তরে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের রফতানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। রবি চাষে কৃষকের উৎপাদন খরচের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি সময়মতো রাসায়নিক সারের জোগান এবং তা কৃষকদের মধ্যে সুষম ও স্বচ্ছভাবে বণ্টনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সব মিলিয়ে, চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জলের পরিমাপ অনুযায়ী রবি চাষের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার এই নির্দেশিকা দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে এক নতুন দিক নির্দেশ করছে।

READ MORE.....