Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

আগামী বছর কি পাকিস্তান সফরে যাবেন মোদী?

আগামী বছর কি পাকিস্তান সফরে যাবেন মোদী?

ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শৈত্যের আবহে নতুন করে কূটনৈতিক চর্চায় উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—আগামী বছর কি ইসলামাবাদে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? তবে বর্তমান কূটনৈতিক সংঘাত ও তিক্ততার নিরিখে এই মুহূর্তে এমন কোনো সফরের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জাতীয় সমন্বয়কদের তিন দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে সোমবারই এক বরিষ্ঠ ভারতীয় কূটনীতিকের নেতৃত্বে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

 

গত পয়লা সেপ্টেম্বর কির্গিজস্তানের কাছ থেকে এই বহুপাক্ষিক জোটের পৌরাহিত্য গ্রহণ করেছে পাকিস্তান এবং আগামী বছরের আগস্ট মাসে সেখানেই রাষ্ট্রপ্রধানদের পূর্ণাঙ্গ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সভাপতিত্বের বর্ষে যোগাযোগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবনে উৎসাহ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। সম্মেলন পর্যন্ত ধারাবাহিক এসসিও বৈঠকগুলিতে ভারত প্রথাগতভাবেই অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে, যেমনটা অতীতেও ভারতীয় আধিকারিকেরা করে এসেছেন। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান অত্যন্ত সতর্ক ও মেপে চলা। গত মাসে এই প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, ‘উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের অংশগ্রহণের যথাযথ স্তর নির্ধারিত হবে।’

 

অতীতে এই জোটের শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের খতিয়ান যথেষ্ট ওঠানামায় ভরা। গত বছর আগস্টে চীনের তিয়ানজিন এবং চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে কির্গিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তবে ২০২৪ সালের শীর্ষ সম্মেলন তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং ২০২৩ সালে ভারতের পৌরোহিত্যে হওয়া সম্মেলনটি হয়েছিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এর পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার সঙ্গে নিজস্ব কূটনীতি জোরদার করতে ২০২৭ সালে নতুন দিল্লিতে ‘ভারত-মধ্য এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন’ আয়োজনের তোড়জোড় চালাচ্ছে ভারত। গত ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান সফরকালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভকে এই পরিকল্পনার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন মোদী। ওই বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে উভয় নেতাই ভারত ও মধ্য এশিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ককে বিভিন্ন স্তরে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক দেন। একই সঙ্গে ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের লড়াইয়ে ভারত ও তাজিকিস্তান উভয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম ভারত-মধ্য এশিয়া শীর্ষ বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কারণ কোভিডের নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কায় সে বছর সাধারণতন্ত্র দিবসে মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। এর আগে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এক যুগান্তকারী আট দিনের সফরে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশেই গিয়েছিলেন মোদী। অন্য দিকে দ্বিপাক্ষিক স্তরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর প্রায় এক দশক ধরে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে রয়েছে। কোনো ভারতীয় মন্ত্রীর পাকিস্তান সফরের সর্বশেষ নজির ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যখন এসসিও কনক্লেভে যোগ দিতে ইসলামাবাদ গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২০১৫ সালের ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজের সফরের পর সেটিই ছিল কোনো ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর প্রথম ইসলামাবাদ যাত্রা।

 

তারও আগে, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর আফগানিস্তান থেকে ফেরার পথে এক চরম চমকপ্রদ কূটনৈতিক পদক্ষেপে লাহোরে নেমেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁর পারিবারিক বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তিনি সেখানে যান, যা আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর একমাত্র পাকিস্তান সফর। কিন্তু সেই সৌহার্দ্যের রেশ এক সপ্তাহও স্থায়ী হয়নি; ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ঘটে যায় জঙ্গি হামলা। এর পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে উরির সেনা ছাউনিতে বর্বরোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক কার্যত চিরতরে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আগামী বছর পাকিস্তানে মোদীর যাওয়ার সম্ভাবনা তাই কূটনৈতিক অঙ্কে কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।

READ MORE.....