কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটের নির্ধারিত সময়সূচি নিয়ে তৈরি হল নতুন অনিশ্চয়তা। ২৮ নভেম্বর ভোট করার যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না বলেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়েরের উদ্যোগই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। পুরভোটের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ভোটের অন্তত ৩০ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। ২৮ নভেম্বর ভোট হলে মঙ্গলবারের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এখনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওই তারিখে ভোট হওয়া কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পিছনে আরও একটি প্রশাসনিক বিষয় রয়েছে। পুরভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারির আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর ছুটি থাকায় সেই প্রক্রিয়াও এগোয়নি। এর মধ্যেই কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে এ বিষয়ে আবেদন করার অনুমতি দিয়েছে অবকাশকালীন বেঞ্চ। বিচারপতি আর্য দত্তের বেঞ্চে বিষয়টি উঠেছে বলে সূত্রের খবর। পুরসভার সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে মামলা চলতে থাকলে ভোটের প্রস্তুতিতে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাই স্বাভাবিক।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কালিম্পং ও দার্জিলিং-সহ একাধিক পুরসভার ভোট নভেম্বরের শেষ দিকে করার কথা ছিল। এখন সেই তালিকাতেও কাটছাঁটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, আপাতত কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমকে ঘিরেই ভোটের প্রস্তুতি এগোনোর কথা ভাবা হচ্ছে। কয়েকটি পুরসভার ভোট এই পর্ব থেকে বাদ পড়তে পারে। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু কয়েক দিনের প্রশাসনিক দেরি নয়। কলকাতার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ শেষ পর্যন্ত পুরভোটের গোটা সময়সূচিকেই নতুন করে সাজানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নতুন ঘোষণার দিকে।














