সংবাদমাধ্যমে কোনোভাবেই যেন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানহানি না হয়, তা নিশ্চিত করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত রুজিরার বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করা যাবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর দায়ের করা এই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে আপাতত স্বস্তিতে নারুলা পরিবার।
মূলত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তকে হাতিয়ার করে সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁর নামে মিথ্যা খবর রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন রুজিরা। এর আগে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ইডি তদন্তের তথ্য আগেভাগে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করতে পারবে না। এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও সতর্ক করেছিল আদালত।
সেই নির্দেশের মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সেই রক্ষাকবচের সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেন। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মামলাকারীকে প্রশ্ন করেন, কেন আপনারা নিম্ন আদালতে যান না ? তবে শেষ পর্যন্ত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আদালত সূত্রে খবর, কয়লা পাচার বা নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনায় অভিষেকের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর নামও অকারণে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে মামলাটি দায়ের হয়। রুজিরার দাবি ছিল, তদন্ত প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে তাঁর সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করা হচ্ছে।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে তদন্তের বিষয়ে জনগণকে জানাতে হবে। যদি কোনো সংবাদসংস্থা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ‘মানহানিকর’ প্রচার চালায়, তবে রুজিরা বা অভিষেক তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার অধিকার পাবেন। আপাতত এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত রুজিরার নামে এই ধরণের কোনো প্রচারে জারি রইল আইনি নিষেধাজ্ঞা।













