বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া এবং বিনা নোটিশে ছাঁটাই হওয়া ১৭৪ জন অস্থায়ী শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবিতে বিষ্ণুপুর পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিকদের ধর্মঘট আজ সপ্তম দিনে পড়ল। অস্থায়ী শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের প্রভাবে গত ৭ দিনে জঞ্জালে ভরেছে প্রাচীন মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর। শহরে সাফাই কাজ বন্ধ থাকায় নিকাশী ব্যবস্থার হালও তথৈবচ। বারেবারে আবেদনের পরেও নিজেদের অবস্থান থেকে ধর্মঘটীরা সরে না আসায় জঞ্জাল সাফাইয়ে এবার কোমর বেঁধে নামলেন স্থানীয় বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর নিজের আর্থিক সাহায্যে বুধবার সকাল থেকে আর্থ মুভার নামিয়ে শহর সাফাইয়ের কাজ করলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বিধায়কের এহেন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে ধর্মঘটী অস্থায়ী শ্রমিকেরা। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পুরসভায় ইঞ্জিনিয়ারিং, জলকল, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সাফাই বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫৪৫ জন অস্থায়ী কর্মী আছেন। শহরের ১৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ৭৫ হাজার শহরবাসীর বর্জ্য সাফাইয়ের দায়িত্ব রয়েছে এই অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের কাঁধেই। কর্মীদের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে ২ মাস। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ জমছিল অস্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে।
এরই মাঝে সম্প্রতি ৬০ বছর বয়স অতিক্রম করেছে এই কারণ দেখিয়ে বিনা নোটিশে ১৭৪ জন অস্থায়ী কর্মীকে পুরসভা ছাঁটাই করতেই বিষ্ণুপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। আর তারই প্রতিবাদে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন পুরসভার সকল অস্থায়ী কর্মী। এর জেরে গত এক সপ্তাহ ধরে বিষ্ণুপুর পুর এলাকায় সম্পূর্ণ বন্ধ সাফাই কাজ। স্বাভাবিকভাবেই পর্যটনের শহর বিষ্ণুপুর ভরেছে জঞ্জালে। রাস্তার ধারে-ধারে ডাঁই হয়েছে আবর্জনার স্তুপ। বাদ যায়নি বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধ ও প্রাচীন মন্দিরের সামনের অংশও। সেখানেও ভ্যাট উপচে আবর্জনা গড়াগড়ি খাচ্ছে রাস্তায়।
পরিস্থিতি এমনই যে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে রীতিমত নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে পর্যটক থেকে সাধারণ শহরবাসীকে। বর্ষার মরসুমে বাড়ছে মাছির উপদ্রবও। নর্দমা সাফাই না হওয়ায় নিকাশি ব্যবস্থার হালও তথৈবচ। ডেঙ্গির এই মরসুমে শহরের সাফাই ও নিকাশির এমন হাল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে সাফাই কাজে উদ্যোগী হন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। নিজে উপস্থিত না থাকলেও মূলত বিধায়কের উদ্যোগেই আর্থ মুভার নামিয়ে এদিন সকাল থেকে শহরের জঞ্জাল সাফাই শুরু করেছেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অস্থায়ী শ্রমিকদের একাধিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তারপরেও রাজনীতি করার জন্য বিরোধীদের প্ররোচনায় ধর্মঘট করে রেখে শহরবাসী ও পর্যটকদের সমস্যা তৈরী করা হচ্ছে। বিধায়কের এমন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারী অস্থায়ী শ্রমিকেরা।














