পূর্ব ঘোষণা মতোই আজ অর্থাৎ শনিবার থেকে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য চালু হলো ইস্কনের রান্না করা মিড ডে মিল। প্রথম দিনেই তারাতলার মেগা কিচেনে মিড ডে মিল রান্না করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব ঘোষণা মতোই ১ আগস্টই পাইলট প্রকল্পের মেগা কিচেনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনে আয়োজিত যজ্ঞে সামিল হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও। কলকাতায় শুরু পাইলট প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই যজ্ঞে বসেন। যজ্ঞে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। এর পরে তিনি ফিতে কেটে উদ্বোধন করলেন মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের। রান্নাঘর উদ্বোধন করে তা ঘুরে দেখেন। রান্নার কাজে হাতও লাগান মুখ্যমন্ত্রী।
ইসকনের দাবি, এই রান্নাঘর সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব এবং স্মার্ট কিচেন। এই রান্নাঘরে বসেই দেখা যাবে মিড-ডে মিল নিয়ে যাওয়া কোন গাড়ি, কত দূরে পৌঁছল। গাড়িতে থাকবে জিপিএস। এখান থেকেই রান্না হয়ে তা কলকাতার ৩১৯টি সরকারি স্কুলে প্রতিদিন পৌঁছে যাবে মিড-ডে মিল। এখান থেকেই রান্না হয়ে তা গাড়িতে করে পৌঁছে যাবে কলকাতার স্কুলগুলিতে। সবুজ পতাকা নেড়ে সেই গাড়িরও উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে স্কুলের মিড-ডে মিলের খাবার তৈরিতে। শুধু তাই নয়, যে গাড়িগুলি করে স্কুলগুলিতে খাবার যাবে তা পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হবে। একমাত্র স্কুলে খাবার পৌঁছলে সেই সিল খোলা হবে। ফলে, সমস্ত রকম হাইজিন মেনে স্কুল পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল তৈরি হবে। পাশাপাশি, ইলেকট্রিক গাড়ি করে খাবার পাঠানো হবে স্কুলগুলিতে। খাবারের গুণমান বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের দিকেও নজর রাখা হবে বলে খবর মিলেছে প্রশাসন সূত্রে।
কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩১৯টি সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন অন্ন মিত্র ফাউন্ডেশনকে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়ার জন্য প্রতিদিন রান্না করা পুষ্টিকর নিরামিষ খাবার নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা বহাল থাকছে। তবে ইসকনের পরিবর্তে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদাভাবে ডিম স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে নির্ধারিত দিনে পড়ুয়ারা আগের মতোই ডিম পাবে।
সরকার এই প্রকল্পে প্রাথমিক স্তরের মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে। প্রশাসনের মতে, অতিরিক্ত বরাদ্দের ফলে খাবারের গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। ইসকন জানিয়েছে, সরকারি সহযোগিতায় পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি উদ্ভাবন, দক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ‘সমালোচকদের’ জোড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ইসকনের সঙ্গে রাজ্যের কী চুক্তি হয়েছে, তা না দেখেই ‘প্রথম থেকেই আন্ডা-আন্ডা করে মিছিল করে ফেললেন’। কিন্তু পড়ুয়াদের পাত থেকে ডিম বাদ পড়ছে না। ইসকন সাত্ত্বিক খাবার দেবে। আর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে রাজ্যের তরফে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের আলাদা করে ডিম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে দেওয়া হলেও এতদিন ওই কাজে নিযুক্ত থাকা কর্মীদের কোনও সমস্যা হবে না। তাঁরা কর্মচ্যুত হবে বলে মিছিল বের করা হলেও বাস্তবের ছবিটা অন্য। ইসকনের মিড ডে মিলের কাজেই তাঁদের যুক্ত করে নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘একজনও রাঁধুনি, মা, বোন কর্মচ্যুত হবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে কলকাতার ৫০০টি স্কুলের ৪৪,০০০ পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে ইসকনের মিড ডে মিল। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবা সম্প্রসারিত হয়ে আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই রেশ ধরে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে আগামী সোমবার স্কুলে গিয়ে ইসকনের মিড ডে মিল খেয়ে দেখতে পারেন। তাহলেই তাঁরা বুঝতে পারবেন যে কতটা ভালো করা হচ্ছে।














