Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ সমস্ত সিরিয়াল ও চলচ্চিত্রের শুটিং

রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ সমস্ত সিরিয়াল ও চলচ্চিত্রের শুটিং

শুটিং ফ্লোরে নিরাপত্তার অভাব আর সহ্য করা হবে না। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলের সুরক্ষার দাবিতে সরব হল গোটা টলিপাড়া। মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে সমস্ত সিরিয়াল ও চলচ্চিত্রের শুটিং। টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় অভিনেতা ও কলাকুশলীদের যৌথ সংগঠনের মহাবৈঠকের পর এই চরম সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। টলিউডের ইতিহাসে এই কর্মবিরতি এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার অভিনেতা রাহুলের প্রয়াণের পর থেকেই টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফুটছিল।

 

শিল্পী থেকে টেকনিশিয়ান— প্রত্যেকের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, কেন এই অকালমৃত্যু? রবিবার সন্ধ্যায় সেই ক্ষোভই একজোট হয়ে আছড়ে পড়ল সংগঠনের টেবিলে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘গতকাল আমরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলাম আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে। আমরা রাহুলের পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, কেবল শোক নয়, এবার লড়াই শুরু হল বাঁচার অধিকারের দাবিতে। আর্টিস্ট ফোরামের ৪০০০ সদস্য এবং ফেডারেশনের ৭০০০ টেকনিশিয়ান একযোগে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এই লড়াই আসলে জীবন রক্ষার লড়াই। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, শুটিংয়ের প্রয়োজনে তাঁদের নদী, পাহাড় বা গভীর জঙ্গলে যেতে হয়। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও ন্যূনতম সুরক্ষা নেই। শান্তিলালবাবুর কথায়, ‘নিরাপত্তার জন্য এবং আমাদের সকলের জীবন রক্ষার জন্য এই লড়াই শুরু হল।

 

আমাদের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। আমরা শুটিংয়ে বেরোচ্ছি। কিন্তু ফিরতে পারব কি না বুঝতে পারি না। রাহুল আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’শিল্পীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি তুলেছেন, প্রতিটি শুটিং ফ্লোরে অ্যাম্বুল্যান্স রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বুম্বাদাসুলভ গাম্ভীর্যে তিনি বলেন, ‘শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যেকের কাজের সময়ে সুরক্ষা দরকার। নিরাপত্তা যেন সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হয়। কারণ, প্রত্যেকে এই ঘটনা নিয়ে খুব ভীত।’ একই সুরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। ও যে ভাবে চলে গেল তা কাম্য নয়। ‌ও আমাদের সকলকে একজোট করে চলে গেল।

 

ওর মৃত্যুই এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, ‘আমরা কি আদৌ নিরাপদ?’ গোটা ইন্ডাস্ট্রি একত্র হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ফেডারেশনের তরফে স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, দায় নেওয়ার কেউ নেই বলেই তাঁরা এই পথে হাঁটতে বাধ্য হলেন। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও মঙ্গলবার সকালে সমস্ত পরিচালক ও প্রযোজককে টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়তে পারে মেগা সিরিয়ালগুলি। ব্যাঙ্কিং না থাকায় বহু ধারাবাহিকের সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। তবু টলিপাড়া অনড়, রাহুলের মৃত্যুর বিচার আর নিরাপত্তার গ্যারান্টি ছাড়া লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরা আর চালু হবে না। ছবি সংগৃহিত।

READ MORE.....