পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোডে মঙ্গলবার শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি দলের প্রার্থী বিমান মাহাতোর সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ওই সভা থেকে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দূর করতে হবে! শালবনীর মানুষ তোমাদের আওয়াজ কোথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হটাতে হবে বাংলা থেকে।’ মঞ্চে উঠেই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শালবনীর বসন্তরায়ের চরণে প্রণাম নিবেদন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতবর্ষের শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকেও সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করলেন গৃহমন্ত্রী। ‘বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার ক্ষুদিরাম বসুকে আতঙ্কবাদীর তকমা দিয়েছিলেন। আপনারাই বলুন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যারা আতঙ্কবাদী বলে, তাদেরকে কি সরকারে রাখা উচিত? একটি একটি করে বাংলার অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে বের করতে হবে।
বাংলায় কি অনুপ্রবেশকারীদের রাখা উচিত, আপনারাই জোর করে বলুন।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকার লোভে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় আশ্রয় দিচ্ছেন বলেও চন্দ্রকোনা রোডের সভা মঞ্চ থেকে আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘চন্দ্রকোনা রোডে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে বর্তমান সরকারের বিধায়ক। চার তারিখের পর সমস্ত মাফিয়ারা জেলের ভিতর থাকবে’, এমনই হুঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা কান খুলে শুনে নিন, ২৩ তারিখে জনগণের যদি কোনও অসুবিধা হয়, তাহলে ৫ তারিখের পর তোমাদেরকে দেখে নেওয়া হবে। ভাই ও বোনেরা আপনারা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভায় পদ্মফুল ফুটিয়ে দিন, মোদীজি তিন হাজার কোটি টাকা তোমাদের উন্নয়নের জন্য পাঠিয়ে দেবেন। মমতা ব্যানার্জির গুন্ডারা যেই টাকা তছনছ করেছে তার এক একটি টাকার হিসাব নেওয়া হবে।’
‘শালবনীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাল স্টিলের উদ্বোধন করেছেন কিন্তু আদেও কি এখানে কারখানা গড়ে উঠেছে আপনারাই বলুন। আগামী দিনে জিন্দালের কারখানা মোদীজি গড়ে তুলতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে মা ও বোনেরা সুরক্ষিত নন। সন্দেশখালিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা যেই অত্যাচার করেছে তা কার্যত ভুলবার নয়।
আর জি কর হোক বা মালদা, মুর্শিদাবাদ বা সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ, মহিলাদের উপর যে অত্যাচার নেমে এসেছে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন সন্ধে সাতটার পরে মেয়েরা বাড়ি থেকে যাতে না বেরোয়। বিজেপি সরকার আপনারা বানিয়ে দিন, অর্ধেক রাত পর্যন্ত মহিলারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াবেন, কোনও সমস্যা হবে না।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে আলু চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ‘আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্ন রাজ্যে র্যাকে করে আলু পাঠিয়ে কৃষকদেরকে সুরাহা দেওয়ার জন্য।
আগামী দিনে আমরা প্রত্যেকটি মণ্ডলে একটি করে আলুর কোল্ড স্টোরেজ বানাবো’, বলেও আশ্বাস দেন শালবনীর সভা মঞ্চ থেকে। মে মাসের পর থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে চলে যাবে। সেই সঙ্গে বেকার যুবকদেরও সহায়তার ব্যবস্থা করেছে মোদী সরকার। ‘আমরা সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন ৪৫ দিনের মধ্যে চালু করব। প্রত্যেক যুবকদের ছোট ব্যবসা করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপনারাই বলুন মোদীজি রাম মন্দির বানিয়ে ভালো করেছেন, না খারাপ করেছেন? যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল, সেখানেই রাম মন্দির তৈরি করেছি
। হুমায়ুন কবির তুমি কান খুলে শুনে নাও, বাংলায় কোনও বাবরি মসজিদ করতে দেবো না। আপনারাই বলুন বাংলায় কি বাবরি মসজিদ বানাতে দেওয়া চলে? বাংলার মানুষ আপনারাই বলুন ভাইপোকে কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে দেওয়া যায়? বাংলার আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী বাঙালি মানুষই হবে।’ ‘২৩ তারিখ পদ্মফুলে সবাই ভোট দেবেন তো সবাই? পশ্চিমবাংলায় সরকার বানাতে হবে তো না ভাই-বোনেরা?’ এভাবেই শালবনীর সভা মঞ্চ থেকে, এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতোকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার জন্য আবেদন জানালেন দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ।













