মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নতি হওয়া উচিত। তাই এখানে কিছুদিন আগেই পঞ্চায়েত দপ্তরের রিভিউ বৈঠক হয়েছে। এই জেলা পঞ্চায়েতের কিছু কিছু কাজে পিছিয়ে রয়েছে।’ রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে মুর্শিদাবাদ সফরে পৌঁছে এভাবেই জেলার পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সাধারন মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে আহ্বান জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জেগে থেকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে। সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিকে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে।’ মালদহ জেলায় একটি সরকারি কর্মসূচি সেরে শনিবার রাতে জঙ্গিপুরে এসে পৌঁছন দিলীপ ঘোষ।
সেখানে রাত্রিবাস করার পর রবিবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ‘মর্নিং ওয়াক’ করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনা প্রকল্পে বিপুল অংকের টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে দিয়েছে বলে আগেই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই আবাস যোজনার টাকা যাতে সাধারণ মানুষের হাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পৌঁছায় সেই লক্ষ্যে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আবাস যোজনা সার্ভের জন্য বিধায়কদেরকেও বলা হয়েছিল। তাঁরা যে নাম পাঠিয়েছে সেই নামগুলো সার্ভে করে দেখা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের আমলে বেশ কিছু পঞ্চায়েতে প্রচুর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমন কিছু পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট করানো হচ্ছে।’
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে গরিব মানুষ যাতে কাজ পান তার জন্য সাধারণ মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিদেরও চেষ্টা করতে হবে। এই প্রকল্পে কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছে খরচ করতে। তবে বৃষ্টির জন্য কিছু জায়গায় কাজে একটু সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে এরপর জোরদার কাজ শুরু হবে। তখন যেন কোনও মানুষ কাজ চেয়ে না পান এমন না হয়।’ অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের আয়োজিত ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশ ভাঙা এবং ক্যামাক স্ট্রীটে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য যথাক্রমে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কলকাতার দু’টি থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের এফআইআর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আইনের বিরুদ্ধে কাজ করলে এফআইআর হবেই।
আমরা যখন দলের কর্মসূচি করতাম তখন আমাদের নামে হাজার হাজার মামলা দিয়েছে। কিন্তু ওরা তো কোর্ট-আইন মানছেন না। তাই আইন যা করার করবে।’ পাশাপাশি নেপালে বিপর্যয়ের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সেদেশের সরকার ভারতের এনডিআরএফ-এর সাহায্য নিতে অস্বীকার করা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘জোর করে সেবা করার দরকার নেই। তারা নিজেদের সামলে নিতে পারবে, এটা খুবই ভাল কথা। এটাই হওয়া উচিত। নেপাল আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং ভারত চিরকাল পীড়িতের পাশে থাকে। তাই আমরা সাহায্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু নেপাল ঠিক করেছে নিজেরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করবে। তাই জোর করে সেবা করার দরকার নেই।’













