পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে বনগাঁর ঠাকুরনগরে এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে পূজা দেওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে মোদী দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের দর্প চূর্ণ হয়েছে এবং আগামী ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে বিজেপির এক ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত।
তৃণমূলের মূল স্লোগান ‘মা, মাটি, মানুষ’-কে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল এখন আর এই স্লোগান ব্যবহার করে না, কারণ তাদের কাজই এই আদর্শের বিরোধী। তারা মায়েদের চোখের জল ফেলেছে, বাংলার মাটি সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং বাংলার মানুষকে কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী হতে বাধ্য করেছে’। তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, এই রাজ্যে ছোট ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার বলে মনে করে।
বনগাঁ ও সংলগ্ন অঞ্চলের মতুয়া ও নমশূদ্র ভোটব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে মোদী সিএএ নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘মতুয়া ও নমশূদ্র পরিবারগুলোকে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি—আপনারা নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা পাবেন এবং একজন ভারতীয় নাগরিকের সমমর্যাদা ও অধিকার পাবেন’। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা ভুয়ো নথি নিয়ে বেআইনিভাবে ঢুকেছেন, ২৯ এপ্রিলের মধ্যে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিন। ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বাংলা থেকে বিতাড়িত করা হবে। তৃণমূল আর কাউকে বাঁচাতে পারবে না’।
হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার জুট শিল্প নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধে মোদী বলেন, একসময় এই অঞ্চল ছিল মিল-কারখানার কেন্দ্র। কিন্তু এখন বনগাঁ থেকে ব্যারাকপুর—সব কারখানা বন্ধ। সেখানে শুধু একটিই শিল্প চলছে, তা হলো ‘কাট-মানি’ ও ‘সিন্ডিকেট’। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র গত ১১ বছরে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দ্বিগুণ করেছে এবং প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে চটশিল্পকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু রাজ্য সরকারের দুর্নীতির কারণে মিলগুলো আজ ধুঁকছে।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনতাকে বলেন, ‘নেতাজি বলেছিলেন ‘আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’। আজ আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইছি বাংলাকে তৃণমূলের হাত থেকে মুক্তি দিতে’। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটে এই বাংলা থেকেই বিজেপির (তৎকালীন জনসংঘ) উৎপত্তি হয়েছে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিজেপিকে বাংলার ‘ঘরের দল’ হিসেবে দাবি করেন। বনগাঁর জনসভা সেরে প্রধানমন্ত্রী আরামবাগে আরেকটি সভায় যোগ দেন এবং বিকেলে কলকাতায় বি কে পাল অ্যাভিনিউ থেকে খান্না ক্রসিং পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য রোড-শো করেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে নির্ধারিত হবে বাংলার ভাগ্য।













