কয়লাকাণ্ডের তদন্তে এবার সরাসরি পুলিশের জালে টান দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। একইসঙ্গে এই মামলায় ডাক পেয়েছেন পাচার-চক্রের অন্যতম পান্ডা হিসেবে পরিচিত লালা-ঘনিষ্ঠ চিন্ময় মণ্ডলও। বিধানসভা ভোটের মুখে ইডির এই জোরালো পদক্ষেপ ঘিরে শিল্পাঞ্চল তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়লা পাচারের কারবারে মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ লেনদেনের সূত্র মিলেছে।
গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে উঠে এসেছে মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম। অভিযোগ, পাচারের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ ওই পুলিশকর্তার কাছে পৌঁছেছিল। চলতি মাসের শুরুতেই মনোরঞ্জনের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত কাগজপত্রের গরমিল খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জেরা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। সম্প্রতি কলকাতায় এসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন।
সূত্রের খবর, কয়লা ও বালি পাচারের মতো বড় মামলাগুলিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই গতি বেড়েছে তদন্তে। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি রানিগঞ্জ ও জামুরিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই দিনই অভিযান চলেছিল ওসির বাসভবনেও। অন্যদিকে, চিন্ময় মণ্ডলকে এই পাচার চক্রের অন্যতম ‘মাথা’ বলে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। লালার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং লেনদেনের যোগসূত্র পেতেই এই জোড়া তলব। যদিও এই তলব বা জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে একের পর এক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীকে জেরা করে ইডি এখন সরাসরি প্রশাসন ও পাচারকারীদের গোপন আঁতাঁত ভাঙতে মরিয়া।















