ঘরের মাঠে লিগ টেবিলের মগডালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু অহেতুক মাথা গরম করে মিগুয়েল লাল কার্ড দেখে । সেই ধাক্কায় সেই সুযোগ হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল। চোট সমস্যা এবং দশ জন নিয়ে খেলে বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে ড্র করল অস্কার ব্রুজোর ছাত্ররা। শেষ মুহূর্তের গোলে এক পয়েন্ট পেলেও, খেতাব জয়ের লড়াইটা লাল-হলুদ শিবিরের জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। মহামেডানকে সাত গোল আর চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জয়ের পর সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় দল। চোটের কারণে আইএসএল থেকে ছিটকে গেছেন নাওরেম মহেশ, খেলতে পারেননি মাঝমাঠের স্তম্ভ রশিদও। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে আগ্রাসী মেজাজ লক্ষ্য করা যায়। ৬ মিনিটেই রেফারিকে প্রথম কার্ড বের করতে হয়।
ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রাক্তন মোহনবাগানি আশিক কুরুনিয়নের গোলে পিছিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল । পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি লাল-হলুদ । ২১ মিনিটে এক অনবদ্য বাইসাইকেল কিকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান আনোয়ার আলি।
আনোয়ারের গোলের পরই তাল কাটে ম্যাচে। অহেতুক মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিগুয়েল। দশ জনের দলে পরিণত হতেই ছন্দ হারায় ইস্টবেঙ্গল । ৩৯ মিনিটে সুরেশের শটে বেঙ্গালুরু ফের এগিয়ে যায়। তবে এই গোলের ক্ষেত্রে গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের ভুলই বেশি দায়ী ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে একক দক্ষতায় দূরপাল্লার শটে গোল করে লাল-হলুদ গ্যালারিকে উৎসবে ভাসান সল ক্রেসপো (২-২)। তবে আনোয়ার আলি মাঠ ছাড়তেই ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। ৫৯ মিনিটে উইলিয়ামসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু।
হার যখন নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন সমর্থকরা, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন সোজবার্গ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর দুরন্ত গোল মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গলের জন্য।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। হার এড়ানো গেলেও ঘরের মাঠে সম্পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় মুম্বইয়ের মতো দলের সঙ্গে লিগ শীর্ষের লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল লাল-হলুদ ব্রিগেড। একদিকে লড়াইয়ের মানসিকতা তৃপ্তি দিলেও, মিগুয়েলের লাল কার্ড এবং রক্ষণের ভুল এখন চিন্তায় রাখছে কোচ অস্কার ব্রুজোকে।















