কেদারনাথ মন্দিরে কেবলমাত্র হিন্দুরাই প্রবেশ করতে পারবে, এমন নিয়ম চালু হতে চলেছে। অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সবক’টি মন্দিরেই। এই নিয়ম আগে পুরীর মন্দিরে কড়াভাবে কার্যকর ছিল। এর আগে হরিদ্বারে গঙ্গার ঘাটের কাছে একাধিক প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানেও লেখা ছিল, হর-কি-পৌরি-তে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ। এগুলি ধর্মীয় স্থান হিসাবে আবেগ জড়িয়ে থাকলেও পাশাপাশি, পর্যটন স্থলও। সেখানে অহিন্দুদের প্রবেশ ‘নিষিদ্ধ’ করে যে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তা মোটেও কাঙিক্ষত নয়।
মুখে হিন্দু ধর্ম বললেও আদতে এটি সনাতন ধর্ম, যা উদারতা, সহনশীলতা ও সর্বজনীনতার এক মহান দর্শন, যা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্বই পরিবার) মন্ত্রে বিশ্বাসী। এটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা মতবাদে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ঈশ্বরকে বিভিন্ন রূপে ও নামে উপাসনার স্বাধীনতা দেয়, যেখানে সকল পথেই একই পরম সত্তাকে (সচ্চিদানন্দ) লাভ করা যায়। সেখানে ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলে অ-হিন্দুদের বর্জনের মতো পদক্ষেপ আসলে সনাতন ধর্মের আদর্শকেই কলুষিত করছে। পক্ষান্তরে অন্য কিছু ধর্মেও গোঁড়ামি, মৌলবাদের দেখা মেলে। যা সর্বাংশে পরিত্যাজ্য হওয়া উচিত।















