আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আসানসোলের বার্নপুর রোডে ঢলি লজ সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি গত পাঁচ বছরে বিধায়ক হিসেবে তাঁর কাজের বিবরণ তুলে ধরেন। বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘আমি গত ৫ বছরে বিধায়ক তহবিল থেকে এলাকায় কাজের জন্য ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। তার মধ্যে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৮১ হাজার ২৩৪ টাকার কাজ করেছি। শাসক দলের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও আমি গত পাঁচ বছরে বিধায়ক হিসেবে যে কাজ করেছি, তা শাসক দলের বিধায়কেরা করতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বিধায়ক একটি বিধায়ক তহবিল পান। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা সেই তহবিল জনগণের উন্নয়নে ব্যবহার করেন না। তারা কেবল নিজেদের পকেট ভর্তি করেন। তবে, আমি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে অনেক উন্নয়ন করেছি। এই কারণে, প্রার্থী হিসেবে যখন আমি প্রচারে বেরোচ্ছি, তখন জনগণের মনে বিজেপির প্রতি সমর্থন দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৩ এপ্রিল যখন আসানসোল দক্ষিণের মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তখন আমি আত্মবিশ্বাসী যে তাঁরা আবারও পদ্ম প্রতীকের পাশের বোতামটি চাপবেন। একজন বিজেপি বিধায়ক হিসেবে আমি ধর্ম বা জাতপাতের তোয়াক্কা না করে সবসময় আসানসোল দক্ষিণের মানুষের জন্য কাজ করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।’ হটন রোড মোড়ে টোটো চালকেরা রাস্তার উপর তাদের টোটো দাঁড় করিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। আমি এই কাজের জন্য সরব হই। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করি। আসানসোল উত্তরের বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, আমি টোটো চালকদের জীবিকার উপর আক্রমণ করছি। কিন্তু ঠিক তার পরের দিনই আমি আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে টোটোদের জন্য একটি পৃথক পার্কিং তৈরি করার অনুরোধ করি। মেয়র আমার এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু মলয় ঘটকের সঙ্গে বিরোধের কারণে তিনি তা করতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে বাংলায় এটাই হয়ে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পুরো আসানসোল এবং সমগ্র বাংলা সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এ বিষয়ে চিন্তিত নন।’ অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘আমি দামোদর নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য বহুবার আওয়াজ তুলেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার প্রশ্ন, তিনি উন্নয়নের কথা এতো বলেন, অথচ দামোদর নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করেননি কেন?’ বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘বিজেপি শুধু কথাই বলে না, যা বলে তা করেও দেখায়। বর্তমানে ভারতের ২১টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কারণে সেখানে ক্রমাগত উন্নয়ন হচ্ছে। এবারের নির্বাচনের পরে বাংলাতেও তাই হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলার এবং আসানসোল দক্ষিণের মানুষ এখন বুঝে গেছেন যে, বাংলার উন্নয়ন করতে হলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতেই হবে।’ তিনি দক্ষিণ আসানসোলের জনগণকে অনুরোধ করেন যে, তারা বছরের পর বছর ধরে অনেক দল দেখেছেন। সব দলই তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু কেউই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। তবে, বিজেপি যা বলে তা করার ইতিহাস রয়েছে। তাই, তিনি সবাইকে বিজেপিকে একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।














