দোষীদের শাস্তির বিচার চেয়ে পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে আবারো ধর্নায় বসলো নিহত তামান্নার মা ও পরিবার। ৮২ দিন হয়ে গেলও এখনো চার্জশিট জমা দিল না পুলিশ। অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামে। তামান্নার খুনিদের মধ্যে ১৪ জন এখনো অধরা, এই প্রসঙ্গেই জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে নিহত তামান্নার মা।
পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তামান্নার পরিবার, এরপরেই পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসে তামান্নার পরিবার। বৃহস্পতিবার নদীয়ার কৃষ্ণনগরের পুলিশ সুপারের কাছে দেখা করতে যান তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। অভিযোগ, পুলিশ সুপারের দপ্তরে ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয় পুলিশ কর্মীরা। তামান্নার মায়ের দাবি, ৮২ দিন কেটে গেলেও এখনো চার্জশিট জমা দেয়নি পুলিশ।
দোষীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যেই প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। দোষীরা যাতে শাস্তি পায় তার জন্য পুলিশের উপর ভরসা রেখেছিলেন তিনি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত ১৪ জন অভিযুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশের নাকের ডগায়। পুলিশ সব জেনে শুনেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন নদীয়ার কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের ভোট গণনার দিন বিকেলে ঘটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় ৯ বছর বয়সী তামান্না। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযোগের তীর তৃণমূলের বিরুদ্ধে, অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল।
এরপরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি হয় কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রাম। মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়, ১০ জন গ্রেপ্তার হলেও এখনো অধরা ১৪ জন। নিহত তামান্নার মা নৃশংস খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন, পরবর্তীতে পুলিশের উপর আস্থা রেখেছিলেন তিনি। পুলিশের আশ্বাসে দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৮২ দিন, কিন্তু খুনিরা এখনো গ্রেপ্তার হলো না। মূলত এই দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার আবারো পুলিশ সুপারের দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন নিহত তামান্নার পরিবার। আর সেখানেই পুলিশের বাধার মুখে পড়লে ধর্নায় বসতে বাধ্য হন মা সাবিনা ইয়াসমিন ও তার পরিবার।













