দেশের প্রধান শহরগুলোতে বায়ুর মান সূচক বা একিউআই বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতের শুরুতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ধোঁয়াশা মিশে তৈরি হওয়া এই বিষাক্ত বাতাস সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের শ্বাসযন্ত্রে। এর ফলে কাশি, গলা ব্যথা, স্বরভঙ্গ এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ঋতু পরিবর্তন নয়, বরং দূষিত বায়ুর ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশ করাই এই অসুস্থতার মূল কারণ। এই সঙ্কট মোকাবিলায় আয়ুষ মন্ত্রক প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও আধুনিক সহজ অভ্যাসের সমন্বয়ে কিছু কার্যকর নিদান দিয়েছে।
দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আয়ুষ মন্ত্রক নিম্নলিখিত অভ্যাসগুলো রপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছে
নুন-জলে গার্গল: নিয়মিত উষ্ণ নুন-জল দিয়ে গার্গল করা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এটি গলার জ্বালা কমায় এবং শ্বাসনালীতে জমে থাকা দূষণ কণাগুলো পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। দিনে অন্তত দু’বার এটি করা জরুরি।
ভেষজ চায়ের জাদু: আদা, তুলসি এবং গোলমরিচ দিয়ে তৈরি ভেষজ চা পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আদা প্রদাহ কমায়, তুলসি ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করে এবং গোলমরিচ বুকের জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ করে।
বাষ্প নেওয়া : নাক বন্ধ বা বুকে অস্বস্তি হলে গরম জলের বাষ্প নেওয়া অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণ গরম জল বা তাতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল মিশিয়ে বাষ্প নিলে ফুসফুস ও নাসারন্ধ্র পরিষ্কার হয়।
ঘরের ভিতরের বায়ু সুরক্ষা: দূষণ কেবল বাইরে নয়, ঘরের ভিতরেও থাকে। বাড়িতে ধূপ বা আবর্জনা জ্বালানো এড়িয়ে চলুন। রান্নার ধোঁয়া বা ধূপের ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য বিষতুল্য হতে পারে। ঘরকে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের উপযোগী রাখুন।
এই সহজ ঘরোয়া প্রতিকারগুলো দূষণজনিত কাশি বা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ছোট ছোট সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ দূষণের মাঝেও আমাদের ফুসফুসকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে।















