শেষযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়, অনুরাগীদের চোখের জল আর তেরো বছরের ছেলে সহজের কাঁধে শেষ বিদায়ের ভার— সব মিলিয়ে বিষণ্ণ এক সোমবারের সাক্ষী থাকল তালিগঞ্জ। দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অকালপ্রয়াণ ঘটে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার সন্ধ্যায় কেওড়াতলা শ্মশানে সম্পন্ন হল তাঁর শেষকৃত্য। বাবার মুখাগ্নি করল পুত্র সহজ। প্রিয় অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এদিন শ্মশানে হাজির ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা ও সায়নী ঘোষের মতো তারকারা।
এদিন সকালেই তমলুক মহকুমা হাসপাতালে রাহুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ, ‘জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। তাঁর ফুসফুসের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে বালি এবং নোনা জল।’ দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকায় শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতেও বালি ঢুকে যায় বলে জানা গেছে। এদিন সকালেই হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ ও পরিচালক সৌরভ পালোধীরা। দুপুর গড়াতেই অভিনেতার মরদেহ পৌঁছয় তাঁর বিজয়গড়ের ফ্ল্যাটে।

প্রিয় বন্ধু ‘অরুণ’-কে শেষবার দেখতে ভিড় জমান পাড়ার লোকজন। রাহুলের মৃত্যুতে টলিপাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও শ্রীলেখা মিত্ররা। তাঁদের দাবি, জলের দৃশ্যে শুটিং সত্ত্বেও কেন ছিল না ডুবরি বা আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা? এদিন বিকেলে বিজয়গড় থেকে শুরু হয় শেষযাত্রা। উপস্থিত ছিলেন রূপাঞ্জনা মিত্র, চন্দন সেন ও অরূপ বিশ্বাসরা। তবে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের ইউনিটের অনুপস্থিতি চোখে লেগেছে অনেকেরই। শ্মশানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সহজকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। দিনশেষে আলোর রোশনাই থাকলেও বিজয়গড়ের অলিতে-গলিতে এদিন কেবলই বিষণ্ণতার ছায়া।















