আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা ঘিরে আড়াআড়ি বিভক্ত বামফ্রন্ট। জোটে কার্যত ‘চিড়’ ধরেছে। বেশ কিছু আসনে নওশাদ সিদ্দিকিদের দলকে জায়গা ছাড়তে নারাজ ফ্রন্টের শরিকরা। পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি।
এমনকি খোদ সিপিএম-কেও চাপের মুখে প্রার্থী বদলের রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে ১৬ আনা জোটের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে গিয়েছে। সংঘাতের আবহে বুধবার মধ্যমগ্রাম আসনে পাল্টা প্রার্থী দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। সেখানে দলের বাজি নিতাই পাল। অথচ এই কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মণকে প্রার্থী করেছে আইএসএফ। ফব নেতৃত্বের দাবি, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কথা দিয়েছিলেন এই আসনে আইএসএফ লড়বে না। ফব-র সাফ কথা, ‘বামফ্রন্টের অনুরোধ উপেক্ষা করেই আইএসএফ মধ্যমগ্রামে প্রার্থী দিয়েছে।’
ফলে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের নামে কার্যত সম্মুখসমরে দুই পক্ষ। একই ছবি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। সেখানে শরিক দল আরএসপি প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় অস্বস্তি বেড়েছে আলিমুদ্দিনের। এদিকে শরিকি চাপ সামলানোর পাশাপাশি খোদ সিপিএম-কেও পিছু হটতে হচ্ছে পাঁশকুড়া পশ্চিমে। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে প্রার্থী করা হলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর। প্রচার শুরু হয়ে যাওয়ার পর এই পিছুটান নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর সিপিএমের অন্দরেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনী বোঝাপড়া অনুযায়ী বামফ্রন্ট ২৫২টি আসনে লড়বে বলে স্থির হয়েছে। এর মধ্যে সিপিএম ১৯৫টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টি, সিপিআই ১৬টি, আরএসপি ১৬টি আসনে লড়বে।’ এর বাইরে আরসিপিআই ও মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসনে লড়ছে। জোট অক্ষুণ্ণ রাখতে শরিকদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিমানবাবু। তবে নিচুতলার ক্ষোভ ও শরিকি বিদ্রোহে জোটের ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।















